ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো হুমকি দিয়ে বলেছেন, তার দেশের আভ্যন্তরীন বিষয়ে যেভাবে বিভিন্ন দেশ হস্তক্ষেপ করছে তাতে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। অন্যায়ভাবে বিভিন্ন দেশ ও ব্যক্তি তার পদত্যাগের দাবি তুলছে। এমনকি কেউ রীতিমতো হুমকি-ধামকিও দিচ্ছেন। এতে তার সমর্থকরাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে দাবি করে তিনি বলেন, উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে যদি গৃহযুদ্ধ বেধে যায় তার দায় উসকানিদাতাদের নিতে হবে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। যদি এই সংকটে সেনা পাঠিয়ে সত্যিই হস্তক্ষেপ করেন তাহলে ‘রক্তের দাগ নিয়ে’ তিনি হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেবেন।
অন্যদিকে, ভেনিজুয়েলায় আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন মাদুরো। স্প্যানিশ টিভি প্রোগ্রাম সালভাদোসে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে মাদুরো এই হুমকি প্রদান করেন। তিনি বলেন, আমি ট্রাম্পসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আমাদের রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা যেন হস্তক্ষেপ না করেন। আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এর একদিন আগে ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসকে বলেন, ভেনিজুয়েলায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের অপশন খোলা রাখছেন তিনি। সাক্ষাতকারে এ বিষয়ে মাদুর বলেন, থামুন জনাব ট্রাম্প। আপনি এমন ভুল করতে যাচ্ছেন যার জন্য আপনার হাতে রক্তের দাগ বসে যাবে যা নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষ করবেন। তার চেয়ে বরং চলুন আমরা একে অপরকে সম্মান করে কথা বলি। আপনি যদি লাতিন আমেরিকায়ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি দেখতে না চান তবে ভেনিজুয়েলা নিয়ে নাক গলানো বন্ধ করুন।
গুয়াইদোকে ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বীকৃতি: এদিকে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসাবে বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে স্পেন, ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, ডেনমার্কসহ কয়েকটি দেশ। ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ এসব দেশগুলোর স্বীকৃতি পাবার পর গুয়াইদোর অবস্থান আরো পোক্ত হলো। এর কয়েকদিন আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন গুয়াইদো। ভেনিজুয়েলা সরকার নির্বাচন দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এখন গুইদোরই নির্বাচন আয়োজনের অধিকার আছে বলে উল্লেখ করেছে ফ্রান্স।