g সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
=সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ১৫ বার = আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলো ১৫ বার = ব্রাজিল ৯ বার
= ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার অঞ্জেলা ডি মারিয়া
= টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় গোল্ডেন বল পেয়েছে আর্জেন্টিনার মেসি
= গোল্ডেন বুট পেয়েছে আর্জেন্টিনার মেসি
= সেরা গোলকিপার হয়েছেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ
মারাকানা ব্রাজিলের গর্ব হলেও এই মারাকানায় ১৯৫০ বিশ্বকাপের উরুগুয়ের কাছে হেরে প্রতিষ্ঠিত হয় মারাকানা ট্র্যাজেডি। এত বছর পর আরো একটি মারাকানা ট্র্যাজেডির সাক্ষী হলো ফুটবল দুনিয়া। গতকাল পুরো ফুটবল দুনিয়া চোখ রেখেছিল কোপা আমেরিকার ফাইনালে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি। সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো। ৯৩ সালে শেষ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শিরোপা খরা ছিল। ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটল আর্জেন্টিনার। সেই সঙ্গে ফুটবলের খুদে জাদুকর লিওনেল মেসির হাতে উঠল বড় কোনো টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রথম ট্রফি।
আজ থেকে আর কেউ বলবে না মেসি শুধু বার্সেলোনাকেই ট্রফি দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার জন্য খেলেননি। কেউ বলবে না মেসি আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দিতে পারেনি। উপেক্ষার জবাব দিয়েছেন, বদনাম ঘুচানো ঐতিহাসিক ফাইনাল জিতল আর্জেন্টিনা। তাও আবার ব্রাজিলের মাঠে ব্রাজিলকে হারিয়ে।
উরুগুয়ের রেফারি এস্তেবান ফাইনালের শেষ বাঁশী বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মেসি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখানেই বসে পড়লেন। অন্যরাও দৌড়ে গিয়ে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন। কারণ অন্য ফুটবলাররা জানতেন একটা ট্রফির জন্য বছরের পর বছর আর্জেন্টাইনদের কান্না শুনতে হয়েছে। কাঁদলেন মেসি। এই কান্না আনন্দের, এই কান্না সুখের। ফাইনাল শেষে আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা চ্যাম্পিয়ন লেখা জার্সি গায়ে দিলেন।
আর্জেন্টিনার ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা পৃথিবী ছেড়ে চলে গিছেন গত ২০ নভেম্বর। তার মৃত্যু ফুটবল দুনিয়াকে কাঁদিয়েছে। ম্যারাডোনার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে মেসিরা মাঠে নেমেছেন। হয়ত পরপারে দাঁড়িয়ে মেসির আনন্দে ম্যারাডোনাও খুশি।
২০১৪ বিশ্বকাপে এই মারাকানার মাঠেই ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে ট্রফি জেতা হয়নি মেসিদের। সেই ম্যাচে নেমেই আর্জেন্টাইন তারকা হিগুয়েন গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন জার্মানি গোলকিপারকে একা পেয়ে। পারেনি হিগুয়েন। কাল সেই মাঠেই ২১ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের লংবলটা বাম পায়ে স্পর্শে রিসিভ করে গতি কমিয়ে দেন। রানিং বলটাই বাম পায়ের আলতো ছোঁয়ায় ব্রাজিলের গোলকিপার এডারসন মোরায়েসের মাথার উপর দিয়ে গোল করেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ১-০। চোখে লেগে থাকার মতো গোল। ব্রাজিলীয়ান সমর্থকরা হতাশ হলেও ডি মারিয়ার গোল ছিল ছবির মতো। ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো গোল।
এই ডি মারিয়া জাতীয় দলের শেষ গোলটি করেছিলেন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জালে। কাল আবার গোল করলেন। কোপায় ডি মারিয়াকে একাদশে রাখেননি কোচ লিওনেল স্কালিনো। ডি মারিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ফাইনালের একাদশে নামিয়ে বাজিমাত করলেন কোচ।
গোল শোধ করার জন্য ব্রাজিল মরিয়া হয়ে উঠে ছিল। মেসিদের চেয়ে নেইমারদের আক্রমণ ছিল বেশি। গোলের জন্য কামড় বসায় ব্রাজিল। রিচার্লসনের গোল বাতিল হয় অফসাইডে। এর পরও রিচার্লসনের শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ নিশ্চিত গোল বাঁচান। মেসিকে ঠেকাতে যেমন ফাউল করতে হয়েছে তেমনি নেইমারকে ঠেকাতেও প্রচুর ফাউল করতে হয়েছে। ম্যাচটায় ফাউলের সংখ্যা আর্জেন্টিনার ১৯ এবং ব্রাজিলের ২২। হলুদকার্ড আর্জেন্টিনার পাঁচ এবং ব্রাজিলের চার। গোল শোধ করতে নেইমার চারটি কর্নার পেলেও কাজে আসেনি।
খেলা শুরু হওয়ার আগে আতশবাজি ফোটানো হয়েছে। লেজার লাইটের আকর্ষণীয় খেলায় মাঠের বুকে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের পতাকা ফুটিয়ে তোলা হয়। ফাইনাল শেষে পুরস্কার গ্রহণ করতে গেলে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের সম্মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা দুই পাশে দাঁড়িয়ে মঞ্চে ওঠার পথ তৈরি করেন।