সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকায় অবস্থিত এমডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয়টি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বন্ধ হওয়া আদমজী জুট মিলের তত্কালীন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সম্মিলিত চেষ্টায় গড়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটি। এমডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করা অনেক শিক্ষার্থীই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রেখে চলেছেন। আদমজী জুট মিলসহ এর অধীনস্থ সবকয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও এ বিদ্যালয়টিই এখন আদমজীর স্মৃতি ধরে রেখেছে।
জানা গেছে, ১৯৫৩ সালে সিদ্ধিরগঞ্জে এশিয়ার বৃহত্তম আদমজী জুট মিল প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকায় লোক বসতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। দিন দিন এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন সেখানে এসে বসবাস করতে শুরু করে। লোকবসতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরপর ১৯৬৩ সালে আদমজী জুট মিলের তত্কালীন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা মিলে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মার্চেন্ট ও ওয়ার্কার এর এম ও ডব্লিউ জুড়ে দিয়ে বিদ্যালয়ের নাম দেওয়া হয় এমডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আদমজী জুট মিলের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ছেলে-মেয়ে ছাড়াও এলাকার ছেলে-মেয়েরাও এই স্কুলে ভর্তি হতে থাকে। এরপর বছর বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
বর্তমানে ১ একর ২৬ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫শ শিক্ষার্থী রয়েছে। ইউ আকৃতির বহুতল বিশিষ্ট ভবনের সামনে রয়েছে বিশাল মাঠ। শিক্ষার্থীরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়েই লেখাপড়া করছে। প্রতি বছরই এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করছে শিক্ষার্থীরা। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে উচ্চ শিক্ষার জন্য বেরিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন নিয়ম করে ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি করানো হয়। বিদ্যালয়ের মাঠের চারদিকে রয়েছে বহুতল ভবন। ২০১১ সাল থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনক্রমে অত্র বিদ্যালয়ে ৫টি শাখা অর্থাত্ ব্যবসা শিক্ষা, বিজ্ঞান, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও কম্পিউটার শাখা চালু করা হয়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২ হাজার ৫ শ শিক্ষার্থী ও ৫০ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ২৭৪ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৭০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ জন। একই বছর জেএসসি পরীক্ষায় ৩৩৫ জন অংশ নিয়ে ৩৩৪ জন পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ জন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ইনডোর গেমসহ সুষ্ঠু বিনোদনের ব্যবস্থা রেখেছেন। স্কুলটিতে রয়েছে সুপরিসর খেলার মাঠ, প্রশস্ত ক্লাসরুম, কমনরুম, লাইব্রেরি, ১৫টি কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। এমন শিক্ষা-সহায়ক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করে তুলতে ভূমিকা রাখছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি গর্বিত। বিদ্যালয়ের সুনাম ধরে রাখতে তিনি সকলের সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছেন।