পুলিশের এক গুচ্ছ দাবি, ইতিবাচক সাড়া প্রধানমন্ত্রীর

পুলিশ সপ্তাহের কল্যাণ সভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেছেন। ট্রাফিক ঝুঁকি ভাতা বাড়ানো, মোটরসাইকেলের জ্বালানি সুবিধা ও রেশন সুবিধাসহ নানা ট্রেড ভাতা দাবি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এই কল্যাণ সভা ছাড়াও এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশের আইজিপিকে ফোর স্টার প্রদান, ১ লাখ সদস্য বাড়ানোসহ নানা দাবি দাওয়া তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শেষে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারিসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ২ শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

কল্যাণ সভায় পুলিশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি তোলেন পুলিশ সদস্যরা। ট্রাফিক পুলিশের ঝুঁকিভাতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করলে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে যথাশীঘ্র সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন। অবসরে যাওয়ার পর একজন পুলিশ কর্মকর্তা অবসরকালীন একজনের রেশন সুবিধা পান। পরিবারের সদস্যদের কথা বিবেচনায় এই সংখ্যা ২ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব দিলে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন। পাশাপাশি পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা নিজেদের অর্থে মোটরসাইকেল ক্রয় করে সরকারি কাজে ব্যবহার করার কথা তুলে ধরেন। মোটরসাইকেলের জ্বালানির ব্যয়ভার এখন থেকে যাতে সরকার বহন করে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ নেয়া হবে বলে জানান।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে আগামী ১ বছরে ১ লাখ পুলিশ সদস্য বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। তবে এসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পুলিশের সেবার মান আরো বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেছেন, জনগণের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে। জনগণ যাতে পুলিশকে বন্ধু মনে করে সেটা মাথায় রেখে কাজ করে যেতে হবে। তিনি বলেছেন, আমরা পুলিশ বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে যা যা করা দরকার করেছি। ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীর সমস্যা সমাধান করে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।