ব্যালন ডি’অরে এবার মেসির প্রতিপক্ষ কেউ আছে?

অবশেষে আর্জেন্টিনার হয়ে একটি শিরোপা জিতেছেন লিওনেল মেসি। দেশটির দীর্ঘ ২৮ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে। 

বিশ্বসেরা ফুটবলারের সামর্থ্য নিয়ে কারো কোন প্রশ্ন না থাকলেও, এতদিন দেশের হয়ে তার ট্রফি না পাওয়াটাকে বড় করে দেখেছেন সমালোচকরা। যদিও এবার তারাও চুপ। এ বছর ফুটবলের সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে মেসির বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেন না এমনকি তার সমালোচকরাও!

দেশের হয়ে কোন ট্রফি জেতার আগেই ৬টি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার, যেটি ফুটবল ইতিহাসের আর কেউ পারেননি। এবার জিতলে নিজের ৭ম ব্যালন ডি’অর জেতা হবে মেসির। 

ব্যালন ডি’অরের জন্য বিশ্বকাপ, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা আমেরিকার মতো টুর্নামেন্টগুলোতে পারফর্ম করা ফুটবলারদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এবছর যেহেতু ইউরো-কোপা দু’টো আসরই অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে হিসেবে এ দু’টি আসরের সেরা খেলোয়াড়দেরকে প্রাধান্য দেবে ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ। আর সে হিসেবে কোপায় গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও ট্রফি জয় করা মেসি অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে থাকছেন নিশ্চিতভাবেই। 

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৭টি ম্যাচ খেলেছেন আলবিসেলেস্তে ক্যাপ্টেন। এরমধ্যে ৩৮টি গোল ও ১৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। এরমধ্যে ২৬টি ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতা, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা এবং কোপায় সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা মেসি। কোপা আমেরিকার পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে কোপা দেল রে জিতেছেন ক্ষুদে জাদুকর। সবমিলিয়ে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে তার প্রতিদ্বন্দ্বী খুব কমই আছে এবার। 

ব্যালন ডি’অরে এ বছর মেসির প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে না বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষস্থানীয় কাউকে। গেল মৌসুমে সিরিআ জিততে ব্যর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ব্যর্থ ইউরোতেও। একইভাবে লিগ ওয়ান, ইউরো কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যর্থ ফরাসী তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বুন্দেসলিগায় গোলবন্যা বইয়ে দেয়া রবার্ট লেওয়ানডস্কিকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি ইউরোতে। যদিও ৩৪ গোল আর ৪ অ্যাসিস্টে এখনও বেশ এগিয়েই আছেন পোলিশ তারকা। 

তবে এদের বাইরে বেশ কয়েকজন ফুটবলার এবার নামডাক কামিয়েছেন। ইউরোজয়ী ইতালির ডিফেন্সজুটি জর্জিও কিয়েলিনি ও লিওনার্দো বোনুচ্চিকে অনেকেই তালিকায় রাখতে পারেন। একইসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী চেলসির এনগোলো কান্তে ও ম্যাসন মাউন্টকেও বিবেচনায় রাখেন অনেকেই।  

তবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ইতালি ও চেলসির মিডফিল্ডার জর্জিনহো। ইউরোর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন তিনি। তবে দুটো টুর্নামেন্টেই দলের সেরা ফুটবলার ছিলেন না তিনি। তারপরও মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো এই একজনকেই বিবেচনায় রাখা যায়। তারপরও মেসি ছাড়া অন্য কারো হাতে এবার ব্যালন ডি’অর উঠলে সেটি বেশ বেমানানই মনে হবে। 

২০১৯ সালে সবশেষ ব্যালন ডি’অর উঠেছিলো লিওনেল মেসির হাতে। করোনার সংক্রমনের কারণে গত বছর বাদ দেয়া হয় এই পুরস্কারটি।

ইত্তেফাক/এএএন