নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে বিকৃত হওয়া ৪৮ লাশ এখনো হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। লাশগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ হয়ে যাওয়ায় তাদের কবে দাফন করা হবে সে নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে, তাদেরকে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করতে চাইছে না পুলিশ।
ইতিমধ্যে ৪৮ লাশের ৬৮ জন দাবিদার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে ডিএনএ নমুনা জমা দিয়েছেন। লাশ ও স্বজনদের নমুনা মেলানোর পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে স্বজনদের কাছেই লাশগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, ‘সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ৪৮ লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি লাশগুলোর দাবিদারদের নমুনা সংগ্রহ করেছে। তারা উভয় নমুনা মিলিয়ে দেখে লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করবে। তবে, আমাদের এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা হচ্ছে, লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের স্বজনদের কাছেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সিআইডি নমুনা মিলিয়ে দেখার পর যদি কোনো লাশের সঙ্গে দাবিদার কারো ডিএনএ নমুনা না মেলে, সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, আপাতত পরিকল্পনা স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া।’
ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ মাকসুদ বলেন, ‘রূপগঞ্জের ঘটনায় আমাদের কাছে ৪৮টি লাশ আসে। সেগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের পর স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন মর্গে ৮টি এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে ১৩টি লাশ রাখা হয়। বাকিগুলো ঢামেক মর্গে রয়েছে। এতগুলো লাশ মর্গে ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ায় প্রথম দিন থেকেই দাফন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই বিকালে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রথম দিন তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে ওই ভবনের চারতলা থেকে ৪৮ জনের লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। লাশগুলোর ডিএনএ নমুনা হিসেবে পাঁজরের হাড় সংগ্রহ করা হয়েছে। আর তাদের স্বজন দাবিদার বাবা, মা এবং সন্তানের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা হিসেবে রক্ত ও লালা সংগ্রহ করে সিআইডি।
ইত্তেফাক/এএএম