চট্টগ্রামে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের সদর দফতর সিআরবি (সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং) সংলগ্ন গোয়ালপাড়া এলাকায় ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও ১০০ আসন বিশিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তবে সিআরবি এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতায় নেমেছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদে গতকাল প্রকল্প এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরী।
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নিজ খরচে এই হাসপাতালটি নির্মাণ করবে। চুক্তি অনুযায়ী ৫০ বছর পর সম্পূর্ণ হাসপাতাল রেল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে যা তখন রেলওয়ে হাসপাতাল হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের চুক্তি পরিবর্তন করে চট্টগ্রামের অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে গতকাল বুধবার আইনী নোটিশ দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন। সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সচিব, রেল মন্ত্রণালয় সচিব, পরিচালক, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলী জেনারেল ম্যানেজার, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, সিডিএ চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ মোট ৮ জনকে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ এর আলোকে লিগ্যাল ডিমান্ড জাস্টিস নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোটিশদাতা এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান।
নোটিশে বলা হয়েছে সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি) ভবনকে ঐতিহাসিক, স্থাপত্য ও পরিবেশগত সংরক্ষিত এলাকা বা স্থাপনা হিসেবে তালিকাভূক্ত করেছে সিডিএ। হাসপাতালের জন্য প্রস্তাবিত এলাকাটি মহান মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য শহীদের স্মৃতিজড়িত ভূমি। প্রকল্প এলাকাটি জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সেখানে অনেক বৃক্ষ আছে যাদের বয়স ১০০ বছরেরও অধিক। বিশালাকৃতির গাছগুলো নানা প্রজাতির জীব-জন্তু, পাখি ও পোকামাকড়ের অভয়ারণ্য। বর্তমানে জায়গাটি চট্টগ্রামের আকর্ষণীয় ও মনোরম জায়গার মধ্যে অন্যতম যেখানে মানুষ শহুরে কোলাহল থেকে অবকাশ যাপনের জন্য আসেন। এমন একটি এলাকায় হাসপাতাল নির্মিত হলে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘিœত হয়ে কোলাহলময় ও ঘিঞ্জি এলাকায় পরিণত হবে।
এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান ইত্তেফাককে বলেন, আমরা হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করছি না। আমাদের দাবি হাসপাতালটি সিআরবি এলাকায় নির্মাণ না করে অন্য কোনো এলাকায় করা হোক। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দোকান ও মার্কেট গড়ে উঠবে যার ফলে উক্ত এলাকার পরিবেশ দূষিত হবে। বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ (ক) এবং অনুচ্ছেদ ২৪ এ বর্ণিত পরিবেশ সুরক্ষা ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের বিধান লংঘন করে বৃক্ষ নিধন ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করার মাধ্যমে হাসপাতাল নির্মাণ রাষ্ট্রনীতির ক্ষমতা বা এখতিয়ার বহির্ভূত।
ইত্তেফাক/এনএ