গেইলের ‘ঘুমন্ত’ ব্যাট জাগবে কবে?

পুরুষদের জন্য প্রসাধনের এক বিজ্ঞাপনে তামিম ইকবালের সংলাপ ছিল এমন—বয়স তো মাত্র ২৩, এখন না পটালে, কখন।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে ক্রিস গেইলের ঘুমন্ত ব্যাটকে ইঙ্গিত করে এখন অনেকেই বলছেন, এখন না জাগলে, কখন।

দেখতে দেখতে শেষ প্রান্তে চলে এসেছে বিপিএল। আজ ফাইনালের টিকিট পাওয়ার মঞ্চে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে খেলবে রংপুর রাইডার্স। কিন্তু এখনো ঘুমিয়ে টি-২০ ফরম্যাটের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান গেইলের ব্যাট! বিপিএলে এবার ১১ ম্যাচে ১৮৮ রান করেছেন, ৫৫ সর্বোচ্চ। যা তার নামের সঙ্গে পুরোপুরি বেমানান। এমনকি তার বিপিএলের অতীত রেকর্ডও যেন লজ্জা পাচ্ছে গেইলের ব্যাটের রান খরা দেখে।

৩৯ বছর বয়সী এই ক্যারিবিয়ান ব্যাট হাতে সবসময় দানবীয় প্রতিমূর্তি। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে একের পর এক ছক্কা হাঁকানো, বোলারদের কচুকাটা করার দৃশ্যেই গেইল বেশি মানানসই। কিন্তু বিপিএলে এবার বিবর্ণ তার ব্যাট। ঠিক কবে জেগে উঠবে গেইলের ব্যাট?

সোমবার রাতে রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি বলেছেন, ঠিক সময়ে জ্বলে উঠবেন গেইল। তিনি বলেছেন, ‘গেইলের মতো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আশা করতে পারি যে, বড় ম্যাচে জ্বলে উঠবে। এই ফরম্যাটে ওর দিকে সবার চোখ থাকে। আমরাও ব্যতিক্রম না। গত মৌসুমেও তাই করেছে। আশা করছি, ঠিক সময়ে জ্বলে উঠবে গেইল। একটি ম্যাচই হয়ত আছে। কিন্তু সেই ম্যাচটিতেই খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আছি এখন আমরা।’

অন্যদিকে এতদিন গেইলের ঘুমিয়ে থাকা ভীতি সঞ্চার করছে ঢাকা শিবিরে। কারণ যে কোনো মুহূর্তেই জেগে উঠতে পারেন তিনি। আর সেটি হলে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ধ্বংসলীলায় মেতে উঠবে তার ব্যাট।

গেইলের রান খরা নিয়ে গতকাল ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ‘ক্রিস গেইল খেলতে পারছে না, এটি আসলে ভয়েরই কারণ। এর আগের ফাইনালে ক্রিস গেইলের একশই আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল আসলে। এটি আসলে তুলনা করার কিছু নেই।’

টি-২০ মহাতারকা গেইল বিপিএলে ১১৮ ছক্কা হাঁকিয়েছেন। বিপিএলে আর কারো ১০০ ছক্কাই মারতে পারেননি। এই টুর্নামেন্টে ছয় আসর মিলিয়ে ৩৭ ম্যাচে ৪২.৬৭ গড়ে ১৩২৩ রান করেছেন তিনি। অতীতে তার ব্যাটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজিরও আছে।

যেমনটা সর্বশেষ আসরে রংপুরের শিরোপা জয়ে বড় অবদান গেইলের। দুটি সেঞ্চুরিসহ ১১ ম্যাচ খেলে ৫৩.৮৮ গড়ে ৪৮৫ রান করেছিলেন। ফাইনালে ঢাকার ৬৯ বলে অপরাজিত ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। যা এখন পর্যন্ত বিপিএলের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। এলিমিনেটর ম্যাচেও খুলনার বিপক্ষে ৫১ বলে অপরাজিত ১২৬ রান করেছিলেন তিনি।

২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরে বরিশাল বার্নার্সের হয়ে ৫ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিসহ ৯৬.০০ গড়ে ২৮৮ রান করেছিলেন। ২০১৩ সালে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন গেইল। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে ১১৪ রানের ইনিংস উপহার দেন। সেই ইনিংসে ফাইনালে উঠেছিল ঢাকা। ২০১৫ সালের আসরে বরিশাল বুলসের হয়ে ৪ ম্যাচ খেলে খুব সুবিধা করতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। রান করেছেন ১৩৯। যার মধ্যে ৪৭ বলে অপরাজিত ৯২ রানের একটি ইনিংস ছিল।