‘মাছে ভাতে বাঙালি’—নদীমাতৃক বাংলাদেশের একটি চিরাচরিত প্রবাদ। মাছ উত্পাদনে বাংলাদেশ খুবই সমৃদ্ধ। জায়গা করে নিয়েছে চীন আর ভারতের পরেই। বাংলাদেশে চার হাজার প্রজাতির বেশি মাছ রয়েছে। এদের কিছু মিঠা পানির এবং কিছু লবণাক্ত পানির। এদের আকার-আকৃতিতে অনেক বৈচিত্র্য এবং নান্দনিক নাম রয়েছে—যেমন বৌরানী, গুলশা, তপশে, কাকিলা। স্বাদু পানির মাছ বলতে কাতলা, শিং, রুই, বোয়াল এবং সামুদ্রিক মাছের মধ্যে রয়েছে পোয়া, বাটা, ফাইশ্যা, ছুরি, কোরাল ইত্যাদি; এদের কয়েকটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রায় ত্রিশটি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। স্বাদু পানির মাছ ২৬০ প্রজাতি থেকে কমে বর্তমানে ২১০-এ এসে পৌঁছেছে। ৫৪টি প্রজাতি হুমকির মুখে। ১২টি প্রজাতি ভয়ংকর বিপদাপন্ন। ২৮ প্রজাতির মাছ বিপদাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত। এই মত্স্য বৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ—মাছের বসবাসস্থল ও প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং উভয় জলাশয়ের মাঝে মাছের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা। এর সঙ্গে আছে জলাশয় দখল ও ভরাট, জলাশয়ের পানিদূষণ, ত্রুটিপূর্ণ জলাশয় ব্যবস্থাপনা ও মাত্রাতিরিক্ত মত্স্য আহরণ, মত্স্য আইন না মানা, ক্ষতিকর বিদেশি মাছের আগ্রাসন, জলবায়ুর পরিবর্তন, কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ধরা, ফসলি জমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি। আমাদের মত্স্য সম্পদ রক্ষা তথা দেশীয় মাছগুলো যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আশা করি এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
নুসরাত জাহান
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ, নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়