মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রাম হয়ে হাইল হাওরে যাওয়ার পথে তোতার ভাংতি নামক স্থানে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় বড় আকারের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিগত ১৫/২০ বছর ধরে এই রাস্তায় কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে ভাঙনের ফলে আশপাশের ১০/১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে হাওর এলাকায় আসা-যাওয়া করতে হয়। ফলে এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রুস্তমপুর গ্রাম থেকে হাইল হাওরে যাওয়ার জন্য প্রায় ২০ ফুট প্রশস্ত মাটির এই রাস্তাটি দুই/তিন কিলোমিটার যাওয়ার পরে প্রায় ৫০ গজেরও বেশি জায়গা জুড়ে ভাঙা। প্রচণ্ড ঠান্ডার মাঝেও হাঁটু কাদাযুক্ত পানি ডিঙ্গিয়ে ভাঙন অংশ পেরিয়ে কৃষকরা গবাদিপশু নিয়ে হাওরে যাওয়ার জন্য রাস্তা পারাপার করছে। স্থানীয় সমাজসেবক ও সংস্কৃতি কর্মী সুবোধ সরকার ও রামকৃষ্ণ সরকার বলেন, ১৫/২০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী বিলাস ছড়ার বিভিন্ন ভাঙন দিয়ে ছড়ার গড়িয়ে আসা পানি গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করে তত্সময়ের তোতা মিয়ার জমির পাশে হাওরের এই রাস্তায় ভাঙন দেখা দেয়। সেই থেকে ভাঙন এলাকাটির নাম হয় তোতার ভাঙন বা তোতার ভাংতি। আজ পর্যন্ত এই রাস্তাটির তেমন কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। মাঝখানে দুইবার গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে রাস্তাটির আংশিক মেরামত করা হলেও তা রক্ষা পায়নি। বছর বছরই বিলাস ছড়ার পানি গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙন অংশটি এখন খুবই বড় আকার ধারণ করছে। ফলে হাওরের সাথে জীবিকানির্ভর জনযোগাযোগ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
ব্যবসায়ী পুলিন মল্লিক ও হেমেন্দ্র মল্লিক আকাশ বলেন, ইউনিয়নের রুস্তমপুর, আলিশারকুল, লইয়ারকুল, মাধবপাশা, সাতগাঁও, মতিগঞ্জসহ আশপাশের ১০/১২টি গ্রামের হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন ফসল, মত্স্য চাষ ও গরু চড়ানো, জ্বালানি সংগ্রহসহ অন্য কাজে এই রাস্তা দিয়ে হাইল হাওরে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু ভাঙার কারণে তাদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষক মনসুর আহমেদ ও কৃষক রফিক মিয়া বলেন, যতোই দিন যাচ্ছে ভাঙনটি আরও বিপদজনক হয়ে উঠছে। বর্তমানে হাওর থেকে ফসল ঘরে তোলা তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, পার্শ্ববর্তী রাখালতলী এলাকায় কোদালী ছড়ার উপরে একাটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তদ্রূপ তোতার ভাঙনে যদি একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয় তাহলে হাওরের সাথে যোগাযোগের এই রাস্তাটি রক্ষা করা যাবে এবং জনদুর্ভোগ লাগব হবে বলে ধারণা করেন তারা।
এ ব্যাপারে ভূনবীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ চেরাগ আলী বলেন, রাস্তাটি সংস্কার বা মেরামতের ব্যাপারে আমরা আন্তরিক। গত বছর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই রাস্তায় কোদালীছড়া ও তোতার ভাঙনে দুটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে তোতার ভাঙন এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের কাজটি পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।