১৪০ ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করছে

১৪০ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করবেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এ সব ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হবে কক্সাবাজারে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আত্মসমর্পণের পর তাদের কক্সবাজার জেলা কারাগারে নেওয়া হবে। অপরাধের মাত্রা কম হলে ভালো হওয়ার সুযোগ দেবে সরকার। তবে ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়লে তা অবৈধ সম্পদ হিসেবে বাজেয়াপ্ত করা হবে। মাদকের টাকা বিদেশে পাচার করলে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হবে।

প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, কেউ ভালো হতে চাইলে তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, আত্মসমর্পণ করলেই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সবকিছু মাফ হবে-তা না। আত্মসমর্পণের জন্য ১৪০ জনের মতো মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের হেফাজতে এসেছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারির আগে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সর্বশেষ ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় ১ হাজার ১৫১ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ জন প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারী (গডফাদার)। তাদের ৬৬ জনই টেকনাফের বাসিন্দা।

হেফাজতে থাকা উল্লেখযোগ্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির তিন ভাই আবদুল আমিন, মোঃ শফিক ও মোঃ ফয়সাল, চাচাতো ভাই মোঃ আলম, খালাতো ভাই মং মং সিং, ফুফাতো ভাই কামরুল ইসলাম, ভাগনে সাহেদুর রহমান নিপু, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে দিদার মিয়া, ভাইপো মোঃ সিরাজ, হ্নীলার ইউপি সদস্য নুরুল হুদা ও জামাল হোসেন, টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, নারী কাউন্সিলর কোহিনুর বেগমের স্বামী শাহ আলম, টেকনাফ সদর ইউপি সদস্য এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল্লাহর দুই ভাই জিয়াউর রহমান ও   আবদুর রহমান। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ২ থেকে ১৬টি মামলা রয়েছে।

গত বছরের ৪ মে থেকে সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে র্যাব। ১৮ মে থেকে অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৫৫২টি। গ্রেফতার হয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮০৩ জন। ২০১৮ সালে সব সংস্থার হাতে জব্দ হয় তিন কোটি ৪৯ লাখ ইয়াবা বড়ি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪শ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। শুধু কক্সবাজার জেলায় ৪৪ মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে মারা গেছেন ৪০ জন। পুলিশ জানিয়েছে, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন থেকে আত্মসমর্পণ করছেন প্রায় ৫১ জন। টেকনাফ সদর ও পৌরসভা থেকে ৪২ জন, হ্নীলা ইউনিয়ন থেকে ২৪ জন। অন্যরা হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

অপরদিকে র্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা মাদকবিরোধী শক্ত অবস্থানে কারণে কক্সবাজার ও টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান আসা অনেক কমে গেছে।

র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়েই র্যাব মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী কেউই ছাড় পাবে না। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) মাসুদ রব্বানী বলেন, যারা মাদক ব্যবসা করে সম্পদ বানিয়ে বিদেশে পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করা হবে। আর মাদকের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ নিয়ম অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গ্রামাঞ্চলেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদক

ইত্তেফাকের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, ইয়াবাসহ মাদকের ব্যবহার এখন সারাদেশের সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদক। অনেকে অন্য ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে এখন মাদক ব্যবসা শুরু করেছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এতে অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত উেকাচ পেয়ে থাকেন। এ কারণে তারা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাদক প্রতিরোধে তেমন কোনো অভিযান পরিচালনা করেন না।