আমরা কি ‘প্লাস্টিকের চাল’ সত্যিই খাচ্ছি

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয় ‘প্লাস্টিকের চাল’। গত সোমবার গাইবান্ধা শহরের একটি চালের দোকান থেকে ‘প্লাস্টিকের চাল’ সন্দেহে ১৫ কেজি চাল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপরই বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। যা আতংকও ছড়াচ্ছে- আমরা কি সত্যিই প্লাস্টিকের চাল খাচ্ছি? দেখতে কেমন প্লাস্টিকের চাল? এ রকম হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ভোক্তাদের মনে।

আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাল ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, জব্দকৃত চাল নাজিরশাল জাতের। বাজারে এই চালের চাহিদা বেশি। একারণে অনেক অটোরাইস মিলে মোটা ধানের চাল ছেঁচে চিকন করে নাজিরশাল হিসেবে বিক্রি করা হয়। চালের বাইরের আবরণটি ফেলে দেওয়া হয়। এই আবরণটি পরে মাছ কিংবা গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ছেঁচে  ফেলা এই চালের ভাত একটু বেশি তাপমাত্রায় গলে যায়। তবে চালের ক্রেতা শহরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা রনি মিয়া বলেন, এই চালের ভাত খেতে গিয়ে দেখেন বিশ্রী স্বাদ। পরে ওই চাল ভাজতে গেলে দেখা যায় গরম কড়াইয়ে চাল দেয়ার সাথে সাথে সেগুলো কুঁচকে ও পুড়ে গলে জমাট বেঁধে যাচ্ছে। ওইদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতটি যিনি পরিচালনা করেছিলেন, সেই গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার রায় জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে জব্দকৃত চাল প্লাাস্টিকের হলেও হতে পারে। তাই জব্দকৃত চাল পরীক্ষার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

‘প্লাস্টিকের চাল’ সন্দেহে বিভিন্ন দেশে গুজব

এর আগে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও ‘প্লাস্টিকের চাল’ সন্দেহে গুজব ছড়িয়েছে। এই চাল দেখতে সাধারণ চালের মতোই। কিন্তু এই চালের ভাত দিয়ে দলা পাকিয়ে বল তৈরি করা হলে তা নাকি প্লাস্টিক বা স্পঞ্জের বলের মতো লাফায়! 

বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, প্লাস্টিক দিয়ে কখনো চাল তৈরি করা যাবে না। কারণ, প্লাস্টিক হলে তা সিদ্ধ করলেই গলে যাবে। এছাড়া প্লাস্টিক কখনো গুঁড়া হয় না। প্লাস্টিকের চাল বলে যা বলা হচ্ছে তা গুঁড়া হয়। তিনি বলেন, এটা গুজব ছাড়া কিছুই নয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, গাইবান্ধা থেকে জব্দকৃত চাল এসেছে। আমরা এটি পরীক্ষার জন্য বিসিএসআইআর-এ পাঠাব। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।