‘ঢাকা মেট্রো-শ ১১-১৭৮৮’ নম্বরের হাইস মাইক্রোবাস। মাইক্রোবাসটির সামনে ও পেছনে লাল রঙ দিয়ে বড় অক্ষরে লেখা ‘লাশবাহী’। তবে মাইক্রোবাসে ছিল না কোনো মরদেহ। ভাড়া মিটিয়ে উঠানো হচ্ছিল যাত্রী। গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাজশাহীর ভদ্রা মোড় থেকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। এভাবেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ির চালকদের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘লাশবাহী’ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সগুলো রাস্তায় যাত্রী দেখলেই গতি কমিয়ে চালক যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গন্তব্য জানতে চান। সুবিধামত রুটের যাত্রী হলেই শুরু হয় ভাড়ার দরদাম। জরুরি সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে এই গোপন সার্ভিস। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, মাইক্রোবাসের চালক কোনো উত্তর দেয়নি। এমনকি নিজের নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করেনি।
এবার ঈদুল আজহার পর শুক্রবার থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে । এদিন সকাল থেকে দেখা মেলেনি কোনো যানবাহনের। এছাড়া রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলো একইবারে ফাঁকা। তবে সারাদিন নগরী বিভিন্ন সড়ক দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেছে প্রচুর অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি। রামেক হাসপাতালে রোগী রেখে ফেরার পথে যাত্রী তুলেছেন অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্সের চালক।
শনিবার নগরীর ভদ্রা ও তালাইমারী মোড়ে দেখা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ির চালকেরা রোগী নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে সুযোগ-সুবিধামত তুলছেন যাত্রী। এতে ভাড়াও হাকছেন অন্যান্য দিনের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়িগুলো হাসপাতালে দ্রুত যাওয়ার তাড়া থাকে। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের থামানো হয় না। অধিকাংশ সময় করোনা আক্রান্ত রোগীও থাকে। সে দিকটি বিবেচনা করে পুলিশ সদস্যরা মরদেহ কিংবা রোগীর স্বজনদের কাছে যেতে চায় না।’
তিনি বলেন, রোগী ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী নিয়ে যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/ইউবি