২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা, যাদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু। এই শিশুদের অনেকেই পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। তারা এই বয়সেই এত সহিংসতা ও রক্তপাতের ঘটনা দেখেছে যা বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরও ধারণার অতীত।
গবেষণায় দেখা গেছে, খেলাধুলা সহিংসতা থেকে সৃষ্ট মানসিক ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে, শরণার্থী শিশুদের জন্য হিউম্যানিটারিয়ান প্লে-ল্যাব (এইচপিএল) নামে একটি মডেল তৈরি করেছে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (আইইডি)। এর মাধ্যমে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাদের মানসিক ক্ষত সারিয়ে তুলতে কাজ করছে ব্র্যাক।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার অদূরে সাভারে ব্র্যাক সিডিএম-এ অনুষ্ঠিত ‘প্লে সামিট ২০১৯’ শীর্ষক দুদিনের এক সম্মেলনে এইচপিএল মডেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠায় খেলাধুলার ভূমিকা এবং কিভাবে এই মডেলটি স্বল্প খরচে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় মানবিক সংকট পরিস্থিতিতে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয় সম্মেলনে। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ তালুকদার এবং লেগো ফাউন্ডেশনের লেসলি প্যাট্রিশিয়া হোলস্ট।
উল্লেখ্য, ব্র্যাকের হিউম্যানিটারিয়ান প্লে-ল্যাব মডেলটি মূলত ০ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী যা বিশ্ববিখ্যাত লেগো ফাউন্ডেশনের তৈরি প্লে-ল্যাব মডেলের আদলে নকশা করা হয়েছে। এই হিউম্যানিটারিয়ান প্লে-ল্যাবগুলো তৈরিতে ব্র্যাকের সঙ্গে কাজ করেছে রোহিঙ্গা শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং নারীরা। এতে করে প্লে-ল্যাবগুলোতে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও কৃষ্টির আবহ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।