অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) সংসদকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ‘নেক্সট ইলেভেন (এন-১১)’ দেশের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবহার পূর্বেই শুরু হয়েছে, শিল্প এবং সেবা খাত ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশ্বে পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। আমাদের মানবসম্পদ দেশের অভ্যন্তরে অবস্থান করে এবং দেশের বাহির থেকে আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে অর্থমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০১৬-১৭’ উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে তিনি সংসদকে একথা জানান।
প্রতিবেদনে লোটাস কামাল জানান, বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে এন-১১ দেশের অন্তর্ভুক্ত হলেও এ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ব্যাপক সুযোগ এখনও অব্যবহূত রয়ে গেছে। কারণ বর্তমানে বাজার মূলধন ও জিডিপির অনুপাত মাত্র ১৯.৪৩ শতাংশ যা অনেক উন্নত দেশে শতভাগেরও বেশি। প্রতিবেদনে মন্ত্রী কতিপয় এশিয়া প্যাসেফিক দেশের বাজার মূলধনের তুলনায় জিডিপির অনুপাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশের আর্থিক ব্যবস্থার প্রধান দুটি শাখা হচ্ছে মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার। কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা ব্যাপক। সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সকল স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তেমনি পুঁজিবাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজির সরবরাহ নিশ্চিত করছে। এতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত প্রতিবেদনটিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মোট শেয়ারহোল্ডার সংখ্যা ২৫০, যাদের মধ্যে ২৪১টি স্টেকহোল্ডার কমিশন থেকে সিকিউরিটিজ লেনদেনের জন্য নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত। লোটাস কামাল জানান, ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটির সংখ্যা ৫৬৩টি, যার বিপরীতে ইস্যুকৃত মূলধন ১১৬৫৫১.০৮ কোটি টাকা।