চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শুরুর দিকে কয়েক মাসে রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতে উচ্চ গতি এখন কিছুটা কমতির দিকে। টানা পাঁচ মাস উল্লম্ফনের পর গত ডিসেম্বর থেকেই প্রবৃদ্ধিতে এই ভাটার টান। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানিতে গড় প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশের উপরে থাকলেও সাত মাস শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশে। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে রপ্তানি বেড়েছিল আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আট শতাংশের কাছাকাছি। আর এর আগের মাস ডিসেম্বরে তা ছিল মাত্র ২ দশমিক ১৮ শতাংশ। জানুয়ারিতে রপ্তানি কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ার পেছনে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের আন্দোলন ও এর ফলে বেশকিছু গার্মেন্টস কারখানা কয়েকদিন বন্ধ থাকাকে একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি উদ্যোক্তারা নতুন মজুরি বাস্তবায়নের কারণে বাড়তি মূল্য না দেওয়ার কৌশল হিসেবে বিদেশি ক্রেতারা (বায়ার) অর্ডার কমিয়ে দেওয়াও একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন। তবে গত দুই মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির এ গতি অব্যাহত থাকলেও চলতি অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে ২ হাজার ৪১৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাত্ গত সাত মাসে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলারের বা ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২৪০ কোটি ডলারের। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারিতে ৩৬৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪০ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের পণ্য। অর্থাত্ গত মাসে রপ্তানি বেড়েছে ২৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৮ শতাংশ। বাংলাদেশ মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সোয়া দুই হাজার কোটি টাকা।
রপ্তানির প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক খাত। মোট রপ্তানির প্রায় ৮২ শতাংশ আসে এককভাবে এ খাত থেকে। ইপিবি’র পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সাত মাসে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি বেড়েছে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ১৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে প্রায় ২ হাজার ২২ কোটি ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয়েছে। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৭৬৬ কোটি ডলারের।
তবে গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানিতে ইতিবাচক অবস্থা থাকলেও বড় খাত চামড়া এবং পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আশার আলো নেই। দীর্ঘদিন ধরেই রপ্তানি কমতির দিকে পাটজাত পণ্যের। গত সাত মাসে এ খাতের রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ৬২ কোটি ৩৩ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫০ কোটি ডলারেরও কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ডলারেরও বেশি। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়া ও ভারতে পাটপণ্যে এন্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ হওয়া এর পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আলোচ্য সময়ে চামড়াজাত পণ্যও রপ্তানি কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এ খাত থেকে প্রায় ৭১ কোটি ডলার রপ্তানি আয় আসলেও এবার তা দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে।
রপ্তানি কমার তালিকায় আরো রয়েছে হোম টেক্সটাইল ও সমুদ্রগামী জাহাজ। অন্যদিকে গার্মেন্ট পণ্য ছাড়াও রপ্তানি বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে হিমায়িত খাদ্য ২ শতাংশ, কৃষিজাত পণ্য ৬১ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্য ৫১ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য ২০ শতাংশ, কাঠ ও কাঠজাতীয় পণ্য ৯ শতাংশ।