প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলা

ম্যানাস দ্বীপে নৌবাহিনীর ঘাঁটি নির্মাণ করবে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাপুয়া নিউগিনির ম্যানাস দ্বীপে নৌ বাহিনীর ঘাঁটি নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। মিত্রদের সঙ্গে বন্ধন দৃঢ় করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর তাগিদ থেকে এই ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

শনিবার পাপুয়া নিউগিনিতে এশিয়া-প্যাসিফিক ফোরামের বৈঠকে এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা জানানো হয়। এই অঞ্চলে বাণিজ্য কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে মত দেন বিশ্বনেতারা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন ম্যানাস দ্বীপে চীনের উপস্থিতি প্রশান্ত মহাসাগরে পশ্চিমাদের নৌ চলাচলে প্রভাব ফেলবে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ম্যানাস দ্বীপ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বড় নৌ-ঘাঁটি যা ওয়াশিংটনের প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। সেখানে অস্ট্রেলিয়া দুটি অভিবাসী আটককেন্দ্র স্থাপন করেছে। পেন্স বলেন ম্যানাস দ্বীপে সমুদ্র বন্দর প্রকল্পে অস্ট্রেলিয়া এবং পাপুয়া নিউগিনির অংশীদার হবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় এই দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্স বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্র ও আকাশ পথের স্বাধীনতা রক্ষা করবে।

চীনের দৃষ্টি দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল প্রশান্ত মহাসাগরে। দক্ষিণ চীন সাগরের নৌপথ নিয়ে চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। সম্প্রতি তা প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে বিপুল ঋণ ও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে চীন। পশ্চিমাদের আশঙ্কা সেখানে সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করে সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে চীন।

গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্টক মরিসন পাপুয়া নিউগিনির সহযোগিতায় ম্যানাস দ্বীপে নৌবাহিনী ঘাঁটি নির্মাণের ঘোষণা দেয়। পাপুয়া নিউগিনির একটি প্রদেশ ম্যানাস দ্বীপ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। এই বৈঠকের আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোন দেশ চীনের সঙ্গে এই দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের প্রতিযোগিতা চলছে। এই রাষ্ট্রগুলোর সাগর উপকূলে বিপুল খনিজ সম্পদ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে এই দেশগুলোর অবকাঠামো নির্মাণে তিনশ কোটি ডলার সাহায্য এবং ঋণের প্রস্তাব দিয়েছে।

চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝেং জেগুয়াং সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন। ঝেং আরো বলেন, চীনের সঙ্গে এই দেশগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্য কোন দেশের বাধা হওয়া উচিত না। অন্য কোন দেশ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেও না। গত সপ্তাহে চীনের শীর্ষ কূটনীতিবিদ বলেন দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে বেইজিং এবং ক্যানবেরার একে অপরের কৌশলগত শত্রু না হয়ে সহযোগী হওয়া উচিত।

সম্প্রতি ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিয়েছে কানাডার ফ্রিগেট এইচএমসিএস। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ অনুশীলনে অংশ নিয়েছে কানাডার ফ্রিগেট।