ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
দোয়ারাবাজারে বোরো মৌসুমের শুরুতেই ফসল আবাদ করতে না পেরে কপাল পুড়ছে কাংলার হাওর পাড়ের কৃষকদের। জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরায় পানির অভাবে উপজেলার কাংলার হাওরের পূর্ব অংশের প্রায় হাজার একর বোরো ফসলি জমি পতিত পড়ে রয়েছে। যে জমিতে বোরো ফসল ফলন করেন কৃষকরা, সে জমি এখন পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বোরো আবাদের মৌসুমে উপজেলার কাংলার হাওরের পূর্ব অংশের হিল্লার খেউড়, সিঙ্গির ধাইর বিলসহ হাওরের ডোবা-নালায় পানি নেই। হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। প্রতিবছর ওই হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ সুবিধা না থাকায় এখানকার কৃষকদের একমাত্র ভরসা হিল্লার খেউড়, সিঙ্গির ধাইর বিল ও ডোবা-নালার পানি। এ বছর ইজারাদার বোরো চাষাবাদের আগেই এসব বিলের পানি শুকিয়ে ফেলায় অনাবাদী থেকে যাচ্ছে হাজার একর ফসলি জমি। এ কারণে হাওর পাড়ের তিলোরা কান্দি, বড়কাটা, কান্দাহাটি, সোনাপুর, নুরপুর, বৈঠাখাইসহ লক্ষ্মীপুর ও সুরমা ইউনিয়নের শত শত কৃষক এখন আহাজারি করছেন।
উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কৃষক রাশিদ আলী, সায়াদ আলী, আব্দুল আজিজ, বরকাটা গ্রামের আব্দুর রহমান জানান, সিঙ্গের ধাইর বিল মাঘ মাসে ফিসিং না করে ফাল্গুনে ফিসিং করলে জমিতে আরো ১৫-২০ দিন পানি সেচ দেয়া যেতো। স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, বৈঠাখাই দিগন্ত মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির নামে বিল ইজারা হলেও তারা বোরো মৌসুমের শুরুতেই বিল ও ইজারা বহির্ভূত ডোবা-নালা শুকিয়ে মাছ ধরায় হাওর পাড়ের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ জানান, বিল শুকিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি শুনেছেন। ইজারাদার পানি শুকিয়ে ফেলার পর তাকে অবহিত করায় এবছর আর কিছু করার নেই। এখানকার কৃষকদের সেচ সুবিধা দিতে ইতোমধ্যে তিনি বিএডিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান।