‘এই যুদ্ধ, রক্তপাত আর মৃতদেহ দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত’

ইয়েমেনের সর্বত্রই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। সশস্ত্র যোদ্ধারা সামরিক পোশাক পরিধান করে অলিগলি থেকে শুরু করে বাজারের দেয়ালগুলোতে ‘শহীদ’ যোদ্ধাদের পোস্টার সেঁটে দিচ্ছে। গৃহযুদ্ধ দেশটিতে চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। কিন্তু অনেক ইয়েমেনি মনে করেন যথেষ্ট হয়েছে, আর যুদ্ধ নয়। বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সানা ও সরকার-নিয়ন্ত্রিত এডেন শহরের বাসিন্দারা একটি ব্যাপারে একমত। তারা সবাই শান্তি চায়।

ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী আর সৌদি সমর্থিত সরকারের মধ্যে গত চার বছর ধরে এই গৃহযুদ্ধ চলছে। যারা যে পক্ষেই থাকুক, এ যুদ্ধ আরব বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীটিকে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। সানার বাব আল-সাবাহ মার্কেটের দোকানি আমিন মোহাম্মদ বলেন, ‘যুদ্ধে কোনো ক্ষমা নেই। এটা সবকিছু গ্রাস করে নেয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিদিনই ইয়েমেনিরা যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’

রাজধানীর সানার বাজারগুলোতে মোহাম্মদের মতো দোকানীরা দোকান খুলে খদ্দেরের আশায় বসে থাকেন। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে চান। কিন্তু দেশটির হুতি বিদ্রোহীরা সংবাদমাধ্যম ও নগরীর মসজিদগুলোর মাইকে সরকার ও সৌদি সমর্থিত জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মানুষকে আহ্বান করছে। হুতি নিয়ন্ত্রিত আল-মাশিরাহ টিভি মানুষকে হুতি বাহিনীতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য অব্যাহতভাবে সামরিক ও রণসংগীত প্রচার করছে। হুতিদের জনপ্রিয় স্লোগান হচ্ছে, ‘এটা আমাদের দেশ। এটা আমাদের যুদ্ধ।’

কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আব্দেল করিম এতে ভ্রক্ষেপ করছেন না। সাত সন্তানের মুখের খাবার যোগানোই এখন এই বাস চালকের একমাত্র চিন্তা। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ, এতো রক্তপাত ও মৃতদেহ দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত।’ সানার এই বাসিন্দা আরো বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। আর না। এখন সময় এসেছে ইয়েমেনকে নতুন করে সাজাবার। দেশ পুনর্গঠনে সকল মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’

২০১৪ সালে বিদ্রোহীরা সানা দখল করে নেওয়ার পর সরকার এডেনকে ‘ডি ফ্যাক্টো’ রাজধানী বানিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এডেনের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দা খুলুদ আল-আকেলও সানার আব্দেল করিমের মতোই ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ দেখতে দেখতে আমরা খুবই ক্লান্ত।’ যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের এই নারী আরো বলেন, ‘আমাদের গ্যাস, পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।’ বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধের অবসান চাই।’