বাংলাদেশে একুশে ও স্বাধীনতা পদক সবচেয়ে সম্মানীয়। শুরু থেকেই জীবিত ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি মরণোত্তর পদকও দেওয়া হচ্ছে। তবে, কখনো কখনো জীবিতদের ছাড়িয়ে গেছে মরণোত্তের সংখ্যা। যেমন ২০০২ সালে ১৪ জন ব্যক্তিত্বকে ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়; যাঁদের ৭ জন পেয়েছেন মরণোত্তর। ২০০৩ সালে ১২ জন একুশে পদকপ্রাপ্তের মধ্যে মরণোত্তর ছিলেন ৫ জন। ২০১৪ সালে ৯ জন ব্যক্তিত্ব এবং ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করা হয়; যাঁদের মধ্যে ৭ জন পেয়েছেন ‘মরণোত্তর’। ২০১৬ সালে ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি সংস্থাকে এ পদক প্রদান করা হয়। যাঁদের মধ্যে ৭ জনই ‘মরণোত্তর’। আর ২০১৮ সালে ১৮ জন ব্যক্তিত্বের মধ্যে ১০ জনকে ‘মরণোত্তর’ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্বাধীনতা অথবা একুশে পদকপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিত্ব। কিন্তু বালাই ষাট বলেও তো একটি কথা আছে। এই ষাটের কোটায় এসে এমন অনেক সম্মানিত ব্যক্তিই প্রয়াত হয়েছেন যাঁরা একুশে অথবা স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ার দাবিদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কেউ কেউ মরণোত্তর পদক পেয়েছেন বটে, যা তাঁদের পরিবারের পক্ষে গ্রহণ করা অনেক বেদনার ছিল। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ‘রঙপেন্সিল’ গ্রন্থে অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির একুশে পদক না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ করে লিখেছিলেন—‘আচ্ছা, এই মানুষটি কি অভিনয়কলায় একটি একুশে পদক পেতে পারেন না?’ মৃত্যুর ৬ বছর পর হুমায়ুন ফরীদি মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন। বাংলা নাটকে আধুনিক নাট্যধারার প্রবর্তক সাঈদ আহমদ ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি প্রয়াত হন। এক মাস পরই তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। পরের বছর অর্থাত্ ২০১২ সালে তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদ ২০০৪ সালে মারা যান। তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় ২০১২ সালে। আমরা আশা করি—গুণীর জীবদ্দশাতেই তাঁর কাজের স্বীকৃতি দেবেন সরকার। এবং সেটাই জরুরি। বেঁচে থাকতেই যদি গুণী স্বীকৃতি না পান, তবে মরণের পরে সরকারের দায়িত্ব রক্ষায় তাঁর কী এসে যায়!
বোরহান বিশ্বাস
খিলগাঁও, ঢাকা