সৈয়দপুরে ইটভাটায় গিলে খাচ্ছে সোনা ফলানো মাটি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সৈয়দপুরের আকাশে উড়ছে কুণ্ডলী পাকানো কার্বন-ডাই-অক্সাইডমিশ্রিত কালো  ধোঁয়ার বিষ। ইটভাটার ঝাঁজালো  ধোঁয়ায়  ছেয়ে যাচ্ছে চারদিক। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

গাছে ফলছে না  তেমন ফল,  ক্ষেতে হচ্ছে না আশানুরূপ ফলন। ইটভাটার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে  সোনা ফলানো মাটি। নিয়ম-কানুনেন  তোয়াক্কা না করে  দো-ফসলি ও তিন-ফসলি জমির উপর গড়ে উঠেছে প্রায় ৪০টি ইটভাটা।

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন ঘুরে বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কৃষক এলাহী বকস সরকার, আবুল  হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও  তোফাজ্জল  হোসেন জানান, কামারপুকুর ইটভাটাগুলো গড়ে উঠেছে উর্বর আবাদী  দো-ফসলি ও তিন-ফসলা উর্বর জমিতে। ইট  তৈরির জন্য ভাটা মালিকরা নামমাত্র টাকা দিয়ে দুই তিন ফিট গভীর করে মাটি  কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া দুই তিন ফিট মাটি কাটার কথা বললেও অনেক সময় চার-পাঁচ ফিট মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

মূলত, তারা জমির টপসয়েল  কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। আর ওইসব জমিতে চার-পাঁচ বছর কোনো ফসল ফলছে না। দলুয়া এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করেন, কিছু কৃষক ইট ভাটায় জমি  দেয়ার কারণে জমিগুলো  ডোবায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে পাশের উর্বর জমিগুলো  ভেঙে পড়ছে ওই ডোবায়। ফলে বাধ্য হচ্ছে অন্য কৃষকরা ইট ভাটায় জমি দিতে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোমায়রা মণ্ডল জানান,  জেলার প্রায় সবগুলোই ইটভাটা  আবাদি জমির উপর, বিভিন্ন খাদ্য উত্পাদন সমৃদ্ধ উর্বর কৃষি জমির মাটি দিয়ে  তৈরি করছে ইট। গাছে ফল ধরছে না। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে করে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা।  এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও বিশেষ কৌশলে ছাড়পত্র পাচ্ছে ইটভাটাগুলো।

ফসলি জমির মাটি কেটে উঠিয়ে নেয়া রোধে সুনির্দিষ্ট কোনো শক্তিশালী আইন না থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।