চিকিত্সক সংকটসহ নানা সমস্যায় হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

ইত্তেফাক ডেস্ক

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র চারদিন ধরে বন্ধ, নিকলীতে এক ডাক্তার পাঁচ বছর ধরে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত এবং মহেশপুর হাসপাতালে ২১ ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছে মাত্র তিনজন। চিকিত্সক সংকটসহ নানা সমস্যায় হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

মাগুরা ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার

কল্যাণ কেন্দ্রে ঝুলছে তালা!

তালা (সাতক্ষীরা):জনবল সংকটে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি গত কয়েকদিন যাবত্ বন্ধ রয়েছে। এতে ঐ এলাকার তৃণমূলের ৯টি গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, পরিবার কেন্দ্রটিতে বিভিন্ন পদে ফার্মাসিস্ট একজন, উপ-সহকারী একজন, আয়া একজন, পিয়ন একজন ও নৈশপ্রহরীর পদ থাকলেও সেখানে একটি পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক একজন ও এফডব্লিউভি পদে একজন কর্মরত রয়েছেন। তবে এফডব্লিউভি হিসেবে কর্মরত শেখ জাহিদুল ইসলামের মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব থাকায় অফিস করেন না তিনি। আর পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক রেহানার অফিসের সকল দায়িত্ব থাকলেও গত শনিবার থেকে তিনি রয়েছেন ডিপার্টমেন্টাল ট্রেনিংয়ে খুলনায়। সঙ্গতকারণেই কল্যাণ কেন্দ্রটি তাই বন্ধ রয়েছে সেই থেকে।

তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (এমওএমসিএইচএফপি) ডা. মোঃ আবুল বাসার বলেন, মাগুরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে জনবল সংকট রয়েছে। তাই পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক রেহানার ট্রেনিংয়ের কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলে তাদের কিছু করার নেই।

নিকলীতে এক চিকিত্সক ছুটি ছাড়াই

পাঁচ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত

নিকলী (কিশোরগঞ্জ):নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিত্সক কর্মকর্তা ছুটি ছাড়াই পাঁচ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। এরপরও তিনি নিজস্ব পদে বহাল আছেন। তবে অনুপস্থিতির পর থেকে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। তার স্থলে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো মেডিসিন চিকিত্সক কর্মকর্তা যোগ না দেওয়ায় দিনের পর দিন যথাযথ চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নিকলী উপজেলা রোগীরা। এই চিকিত্সক কর্মকর্তা হলেন নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন কর্মকর্তা পিনাক শুভ রায়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মেডিসিন চিকিত্সক পিনাক শুভ রায় ২০১৪ সালের ৬ মে ওই হাসপাতালে যোগদান করেন। কিন্তু কোনো ছুটির আবেদন ছাড়াই পিনাক শুভ রায় একই বছরের ২৮ জুন থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে কর্তৃপক্ষ সেখানে কোনো চিকিত্সক নতুন করে নিয়োগ দেয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মোঃ শফিউর রহমান বলেন, মেডিসিন কর্মকর্তা চিকিত্সক পিনাক শুভ রায় ছুটির কোনো আবেদন না করেই গত পাঁচ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ জন্য তার পদ শূন্য বলে ঘোষণা করা যাচ্ছে না। অবশ্য তিনি বেতনও পাচ্ছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কয়েকবার শোকজ করেছেন । কিন্তু তিনি শোকজের কোনো জবাব দেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিত্সক (ইউএইচও) আস আদ দীন মাহমুদ বলেন, মেডিসিন কর্মকর্তা চিকিত্সক পিনাক শুভ রায়কে কয়েকবার শোকজ করেও কোনো জবাব না পাওয়ায় ২০১৪ সালের ৩ জুলাই একই মাসের ১৩ জুলাই জেলা ঊর্ধ্বতন (সিভিল সার্জন) কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়। পরে গত ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মহাপরিচালক ও একই বছরের ২৫ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর চিকিত্সক পিনাক শুভ রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ভঙের অভিযোগে ১৯৮৫ সালের আইনের ধারায় চিকিত্সক পিনাক শুভ রায়ের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা করেছে।

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে নেওয়া চিকিত্সক পিনাক শুভ রায়ের মুঠোফোন নম্বর (০১৭১০৯৫৯৮২৮) বার-বার চেষ্টা করেও কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। চিকিত্সক পিনাক শুভ রায়ের দেশের বাড়ি নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের সাহা পাড়া গ্রামে গিয়েও থাকে বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে তার পরিবারের সবাই ঢাকায় থাকেন। তার চাচাতো ভাই প্রিয়তোষ রায় বলেন, পিনাক শুভ রায় কোথায় আছেন তা আমরা জানি না। সে বাড়ির সাথে কোনো যোগাযোগ রাখে না দীর্ঘদিন ধরে।

মহেশপুর হাসপাতালে ২১ ডাক্তারের বিপরীতে আছেন তিনজন

মহেশপুর (ঝিনাইদহ):মহেশপুর ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২১ জন ডাক্তারের বিপরীতে তিনজন ডাক্তার দিয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম। মহেশপুর হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তাসহ ডাক্তার থাকার কথা ২১ জন তার মধ্যে হাসপাতালে আছে মাত্র তিনজন। মহেশপুরে চারটি সাব-সেন্টারে চারজন মেডিক্যাল ডাক্তারের পদ থাকলেও সেগুলো রয়েছে শূন্য। ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৯ জন মেডিক্যাল সহকারী থাকার কথা থাকলেও তা রয়েছে শূন্য। মহেশপুর একটি বৃহত্তর উপজেলা। এখানে প্রায় সাড়ে চার লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধ না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকার্তা ডা. নাসিরউদ্দিন জানান, চিকিত্সকের স্বল্পতার কারণে রোগীদের মানসম্মত চিকিত্সা দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। এই হাসপাতালে প্রতিদিন তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ রোগী বহির্বিভাগে সেবা নেওয়ার জন্য আসে। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন রোগী ভর্তি আছে। তিনজন ডাক্তার দিয়ে ২৪ ঘন্টা হাসপাতাল চালানো তাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর। তারপরও সেবা কার্যক্রম তারা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।