গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
এতিম বালিকা শিশুদের সমাজের মূল স্রোতে টানতে বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছে গফরগাঁও উপজেলার হোসেন আলী-জাহেদা খাতুন এতিমখানা (বালিকা শিশু পরিবার)। গফরগাঁও উপজেলার লামকাইন গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দারোগা বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে হোসেন আলী-জাহেদা খাতুন এতিমখানা। এ শিশু পরিবারে সুবিধাবঞ্চিত ৬০ জন এতিম বালিকা আছে।
২০১৮ সালে ১১৫ শতাংশ জমির উপর হোসেন আলী-জাহেদা খাতুন এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতিম বালিকাদের থাকার জন্য এখানে ৬ তলা ভিত্তির উপর ২৪ হাজার বর্গফিটের ৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ভবনটি নির্মাণে ১ কোট ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ কাজে কাতার চ্যারিটি ৮৬ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ এতিমখানাটিতে পিতৃ-মাতৃহীন ১০০ জন এতিম শিশুর থাকা-খাওয়া, ভরণ-পোষণের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসনের জন্য বর্তমানে ৬০ জন এতিমকে কর্তৃপক্ষ এই এতিমখানায় প্রতিপালন করছে। তাদেরকে পাশের লামকাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লামকাইন কেএ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। শিশুদের বিনামূল্যে ব্যাগ, খাতা, কলম, পেন্সিল, স্কুল পোশাকসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ দিয়ে স্কুলে পাঠানো হয়। স্কুল সময়ের আগে ও পরে তাদেরকে পড়াশোনা করানোর জন্য কর্তৃপক্ষ দুইজন নারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এতিমখানার শিক্ষিকা রোকসানা বেগম ও খাদিজা আক্তার ঋতু জানান, এতিম শিশুদের পারিবারিক পরিবেশে, স্নেহ ও আদর-যত্নের সঙ্গে তাদের পড়াশোনা করানো হয়। এছাড়াও তাদের জন্য শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
এই এতিম খানার বাসিন্দা খাদেজা আক্তার মিম (৮), দোলেনা বেগম (১০), সালমা আক্তার (১৩) জানান, এখানে আমাদের খুব ভালো লাগে। আমরা পড়াশোনা করতে পারছি । সেলাই শিখছি। বাঁশ-বেতের নানা ধরনের কাজ শিখছি । আমাদের জন্য কম্পিউটার শেখার ব্যবস্থাও আছে।
হোসেন আলী-জাহেদা খাতুন এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম প্রবাল বলেন, সমাজের একেবারে সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের নিয়ে কাজ করাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
গফরগাঁওয়ে সংঘর্ষে আহত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত দলটির নেতা মমিন খাঁ মারা গেছেন। দেড় মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার বিকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রৌহা নামাপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মো. খলিল গ্রুপের সঙ্গে একই এলাকার রফিকুল মেম্বার গ্রুপের বিরোধ চলছিল। গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রৌহা কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের কেন্দ্র কমিটি গঠনের সমাবেশ শেষে উভয় গ্রুপ পাল্টাপাল্টি মিছিল নিয়ে নিজেদের এলাকায় যাওয়ার সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে রৌহা ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মমিন খাঁসহ ছয়জন গুরুতর আহত হয়। মমিন খাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত মমিন খাঁর ভাতিজা ও সালটিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, আমার চাচা মমিন খাঁ আজন্ম বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। সন্ত্রাসীদের হাতে তাকে প্রাণ দিতে হলো।
গফরগাঁও থানার মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।