অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রতিটি ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা করা হবে। আপনাদের বিপদে ফেলতে নয়, নির্ভার করতেই এ নিরীক্ষা হবে। যারা ঋণ নিয়েছে, তারা কারা। তারা যে ঋণপত্র খুলে মূলধনী যন্ত্র এনেছে, তা কোথায় বসিয়েছে, আমরা তা দেখব। তিনটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে আমরা কাজ শুরু করব। আমরা এমন একটা অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই, যেখানে শুধু সততার বিজয় হবে, সবাই সত্য জানবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে এটা করা হবে।
গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয়মালিকানার রূপালী ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ অবশ্যই একটা অপরাধ। এটি জনগণের টাকা, দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এই টাকা কাজে লাগে। এটার সঠিক ব্যবহারে উদ্দেশ্য পূরণ হবে, কিন্তু যারা এটার অপব্যবহার করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নেই। যারা সহায়তা (ব্যাংকার) করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে দুই ধরনের ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রথম শ্রেণি হলো যারা আসলেই ব্যবসা করতে চান, কিন্তু মাঝে মাঝে হোঁচট খান। হোঁচট খেয়ে খেলাপিতে পরিণত হন। তাদের প্রতি সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আর আরেক ব্যবসায়ী শ্রেণি আছেন যারা টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য ঋণ নেন। তাদের প্রতি তিনবার সাবধান বাণী উচ্চারণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেই টাকা আদায়ে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটাই নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যে ব্যবসা শুরু করতে চান ১০ বছর পরে তার যদি কোনো অস্তিত্ব না থাকে তাহলে সেই ঋণ কোনোদিনও ফেরত আসবে না। তাই দেওয়ার পর টাকাটা কোন কাজে লাগানো হচ্ছে সে বিষয়ে তদারকিরও পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি যেসব বিষয় ধারণা করতে পারছি, প্রকৃত সত্য চিত্র পেলে আমাদের জন্য ভালো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয়কে আমি ভালোভাবে চিনি। তিনি আতঙ্ক তৈরির জন্য কোনো কাজ করেননি। আমি এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য আসিনি। ১৯৭৩ সাল থেকে আমি ব্যবসা করি। গ্রাহককে জেনেশুনে ঋণ দিতে হবে। গ্রহীতারা যে খাতে ঋণ নিতে চায় তার গুণগত মান বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে গভর্নর ফজলে কবির লোকসানি ব্যাংকের তালিকায় নাম না থাকায় রূপালী ব্যাংককে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খেলাপি ঋণ। ডিসেম্বর শেষে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৮ শতাংশ দাঁড়িয়েছে এবং পরিচালন মুনাফা ৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি রাখার পর বেশি উন্নতি হবে না বলে মনে করছেন গভর্নর।