আমি প্রেসিডেন্ট না হলে হয়তো উ. কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকতাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যদি গত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট না হতেন তবে এতদিনে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র কিম জং উনের উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বড় রকমের যুদ্ধে জড়িয়ে থাকত। অথচ যুদ্ধের পরিবর্তে তিনি সফলভাবে উত্তর কোরীয় নেতাকে আলোচনার টেবিলে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ২৭-২৮ তারিখে ভিয়েতনামে কিমের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে একটি দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐক্যের ডাকও দেন। ট্রাম্প বলেন, আমাদের বন্দিরা বাড়ি ফিরে এসেছে, পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে আর গত ১৫ মাসের মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়নি। কিম জং উনের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক তৈরী হয়েছে তা একটি ইতিবাচক বিষয়।

ভাষণে মাদক, চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রসঙ্গ একাধিকবার তোলেন ট্রাম্প। তবে বৈধ অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বাধা নেই বলে জানান তিনি। ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, এ ভাষণ রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য নয়। এই ভাষণ মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে। রাজনৈতিক দল নয়, যুক্তরাষ্ট্র একটি জাতি হিসেবে পরিচালিত হবে। ভাষণ চলাকালে কংগ্রেসে উপস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তিন যোদ্ধাকে পরিচয় করিয়ে দেন ট্রাম্প। ৫০ বছর আগে চাঁদে অবতরণকারী নভোচারী বাজ অলড্রিনকেও পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, একসঙ্গে বসে আমরা দশকের পর দশক ধরে চলা রাজনৈতিক মতানৈক্য দূর করতে পারি। মার্কিন বাহিনী দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী। প্রতিদিনই বিজয় লাভ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ভবিষ্যতেও আরো করবে। ট্রাম্প যখন বলেন, ‘আমি দেয়াল নির্মাণ করাবো’ তখন রিপাবলিকান সমর্থকরা দাঁড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। এরপর তিনি বলেন, দেয়াল যদি উঁচু হয়, অবৈধ সীমান্ত পারাপার কমে যাবে। এই দেয়াল হবে একটি ইস্পাতের প্রাচীর, কংক্রিটের নয়। ৫৭০ কোটি ডলারের প্রাচীর তৈরির ‘স্বপ্ন’ ভঙ্গ হলে জাতীয় সংকট তৈরি হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ট্রাম্প।

৮২ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প নিজের শাসনের ইতিবাচক অর্জনগুলো বার বার সামনে তুলে ধরেন। তবে তার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ডেমোক্রেটরা। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধকে ত্যাগ করছেন বলে তাদের অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাটডাউন বা অচলাবস্থার একপক্ষকালের কিছু কম সময়ের মধ্যে তিনি স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিলেন। ডেমোক্র্যাটরা সীমান্তে বেড়া নির্মাণে তহবিল ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে সৃষ্টি হয়েছিল ওই অচলাবস্থা। তবে ওই অচলাবস্থা আবার সৃষ্টি হতে পারে যদি আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ তহবিল ছাড় সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনায় সকল পক্ষ একমত না হয়।

উ. কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত: ট্রাম্প-কিম বৈঠককে সামনে রেখে পিয়ংইয়ংয়ে সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ বিগেন। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দুই নেতার বৈঠকের আগে আলোচনা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বিগেন এ সফর করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প ও কিমের দেওয়া পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে বিগেনের এ সফর সহায়ক হবে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় তাদের সব পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করুক। তবে উত্তর কোরিয়া কখনো এমন কিছু করার কথা বলেনি।