কক্সবাজারে দখলকৃত ২০ একর পাহাড় দখলমুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম গত ২৯ জানুয়ারি থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশ, র্যাব ও প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে এই ২০ একর পাহাড়ি জমি দখলমুক্ত করে। এ সময় পাহাড় কেটে তৈরিকৃত অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের অবৈধ সমপদ অনুসন্ধানে অভিযান শুরু করেছে দুদক।
দুদকে অভিযোগ আসে, প্রভাবশালী একটি মহল সমপ্রতি কক্সবাজারের ফাতেরঘোনা ও নূরু সওদাগরের ঘোনা এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে প্লট তৈরি এবং প্লট বিক্রি করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালায়।
জানা যায়, কক্সবাজারের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সরকারি কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ঘুষের বিনিময়ে পাহাড় ধ্বংসের অপতত্পরতায় নামে। এসব জমি স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে কয়েক দফায় বিক্রি করে এ সিন্ডিকেট প্রায় ১২ কোটি টাকা আদায় করেছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদকের অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এ পাহাড় কাটা সিন্ডিকেটের নেতারা হলেন— নওশাদ হোসেন ও আজাদ হাসান। তারাই মূলতঃ পরিবেশ ও পাহাড় ধ্বংসকে অবৈধ ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এ প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট অভিযানের প্রধান মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, পাহাড় ধ্বংস ও প্লট বিক্রি করে যারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, তাদের সমপদের হিসাব বের করা হবে, দুদক আইনে মামলা করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অবৈধ সমপদ জব্দ করা হবে। শিগগিরই উদ্ধার করা পাহাড়ে বৃক্ষরোপণ ও মাটি ভরাট করে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়কে পূর্বের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য দুদক উদ্যোগ নেবে।