এমপিদের শপথের বৈধতা নিয়ে রিটের আদেশ ১৮ ফেব্রুয়ারি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিদের নেওয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট আবেদনের উপর আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেবে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আদেশের জন্য এদিন ধার্য করেন।

গত ৮ জানুয়ারি একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এমপিদের শপথ বাতিল করে গেজেট প্রকাশের জন্য উকিল নোটিস দেয়া হয়। কিন্তু ওই নোটিসের কোনো জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে এ রিট করেন আইনজীবী মোঃ তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৮ জানুয়ারি। আর একাদশ সংসদের এমপিরা শপথ নিয়েছেন ৩ জানুয়ারি। একটি সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় পরবর্তী সংসদের নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ায় আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন হয়েছে।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, আপনি (আইনজীবী) নবম সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। যেদিন অধিবেশন শুরু হবে সেদিনই কি শপথ নেয়া সম্ভব? শপথ নেওয়ার পর তো সংসদ অধিবেশন শুরু হয়নি। আদালত বলেন, আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন। এক সেকেন্ডও সরকার ছাড়া রাষ্ট্র চলে না। সংসদ না বসলেও সরকার তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

এর আগে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত এমপিদের নামের গেজেট ও শপথ নিতে আইনে কোথাও বারিত করা হয়নি। ৩০ জানুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হয়। সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও ওই সময়ের আগে তারা কার্যভার গ্রহণ করেননি। কার্যভার গ্রহণ হয়েছে সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে। ওইদিন দেশে একটি সংসদই বিদ্যমান রয়েছে। ফলে এমপিরা শপথ নেওয়ায় আইন ও সংবিধানের কোনো লঙ্ঘন হয়নি। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।