৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করে পুলিশ কেন ওভারটাইম পাবে না?

আট ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করলে সরকারি  কর্মকর্তারা ওভারটাইম পান। তাহলে পুলিশ কেন পাবে না? এমন প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এসপি এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বৈঠকের সময় হাবিবুর রহমান এই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তাই এই সুবিধা পান। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এই সুবিধা পান না। কেন এই বৈষম্য থাকবে? জানতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন। 

ওই বৈঠকেই এসপিরা দাবি তোলেন- জেলার আইন শৃঙ্খলা সভার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ডিসিরা। যেহেতু আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের তাই এই সভার সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব চান এসপিরা। মুন্সিগঞ্জের এসপি তার বক্তব্যে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরকে পুলিশ সদর দফতরের অধীনে আনার দাবি জানান। কক্সবাজারের এসপি বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে দায়িত্ব পালনকারী সব পুলিশ সদস্যকে আলাদা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি পুলিশ বাহিনীর জন্য ১০টি হেলিকপ্টার  দাবি করেন। আরেকজন এসপি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা মাদক উদ্ধার করলে অর্থ পুরস্কার পান। পুলিশও  যেন আনুপাতিক হারে অর্থ পেতে পারে সেই ধরনের সুযোগ চান। অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশিদের দেশে পাঠানোর জন্য পৃথক ডেপুটেশন সেন্টার এবং তাদের বিদেশে পাঠানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি করেন একজন ডিআইজি। অপর একজন ডিআইজি বলেন, বিদেশের বিভিন্ন মিশনে পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করতে হবে। ডিও লেটারের মাধ্যমে থানার ওসি নিয়োগ না করার আহ্বান জানান নারায়ণগঞ্জের এসপি।

সভায় আইজিপি বলেন, মাদকের সঙ্গে বা অন্য কিছুর সঙ্গে যদি পুলিশ সদস্যরা জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বলবত্ থাকবে।

সবার কথা শুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনাদের দাবি-দাওয়াগুলো আমি শুনলাম, এগুলো যৌক্তিক। আশা করি, আপনারা এগুলো পাবেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন- যে ইউনিটের যত জনবল দরকার সেগুলো জানালে তিনি সেগুলো দিবেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেরই বিসিএস পাস করে স্বপ্ন থাকে- এসপি হওয়ার। তাই এসপিদের মেয়াদ ও দায়িত্ব নিয়ে কিছু বিধান তৈরির জন্য আমি আইজিপিকে বলেছি। আশা করি সেটা হয়ে যাবে।