উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ দিয়েছে বঞ্চিতরা।
আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জনের নাম জেলা নেতাদের কেন্দ্রে পাঠানোর কথা। অথচ এই নির্দেশনা মানেনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক। উপজেলা বর্ধিত সভায় চেয়ারম্যান পদে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনত্ কুমার, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম মনোনীত হন।
তবে তাদের নাম না পাঠিয়ে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনত্ কুমার ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র-এর নাম পাঠিয়েছে জেলা কমিটি। এদের মধ্যে তৃণমূলের ভোটে শেখ নুরুল ইসলাম ও ফিরোজ কামাল শুভ্র অংশগ্রহণ করেননি। ফিরোজ কামাল শুভ্র বাড়ি তালা উপজেলায় হলেও তিনি থাকেন জেলা শহরে।
মনোনয়ন বঞ্চিতদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়নের লক্ষ্যে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ২৬ জানুয়ারি তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মনোনয়নের জন্য চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র, উপ-প্রচার সম্পাদক প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনত্ কুমার ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম আবেদন করেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনের দাবি জানালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সভা মুলতবি করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের চাপের মুখে পরদিন ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত দেন তিনি। পরে ২৭ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার ফিরোজ আহম্মেদের উপস্থিতিতে ২৯০ জন কাউন্সিলরের মতামতের ভিত্তিতে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনত্ কুমার, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম মনোনীত হয়। অথচ প্রণব ঘোষ বাবলু ও মোঃ রফিকুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ফিরোজ কামলা শুভ্র ও ঘোষ সনত্ কুমারের নাম পাঠিয়েছেন তারা।
তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার ইমান আলী জানান, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে যাদের নাম গেছে, তারা মনোনয়ন না পেলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিভিন্ন সময়ে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছে, তাদের নাম যদি কেন্দ্রে যায় এর থেকে দুঃখ কিছু নেই।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও তালা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। একই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি অনেকাংশে সত্য। কিন্তু জেলা সভাপতির সাথে ঐকমত্য না হওয়ায় বিষয়টি সমাধান করা যায়নি। সভাপতি মনসুর আহমেদ দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে
কিশোরগঞ্জে সভা পণ্ড
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা বিশৃঙ্খলার কারণে পণ্ড হয়ে যায়। গত বুধবার বিকালে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ সাদীর সঞ্চালনায় সভা শুরু হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজল ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নাম আহ্বান করা হলে চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, মাসুদ আল মামুন ও সাকাউদ্দিন আহাম্মেদ রাজন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট এম এ রাজ্জাক, পল্লব কর, রিফাতউদ্দিন আহাম্মেদ বচ্চন, শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ তৌহিদ সুমন, খালেদ সাইফুল্লাহ সাফাত ও মাহবুব হোসেন রিফাত এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে রুবী ইসলাম, আফরোজা আক্তার ও তাসলিমা সুইটির নাম প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে লিপিবদ্ধ করা হয়। একপর্যায়ে মারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সভায় কাউন্সিলর ছাড়াও বহিরাগতদের উপস্থিতির বিষয়ে আপত্তি জানালে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি এবং হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান আহত হন। এমতাবস্থায় সভা পণ্ড হয়ে যায়।