কলেজে কো-অর্ডিনেটর পদ কেন?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনবল কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে কো-অর্ডিনেটর পদ সৃষ্টি করে ছয় জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছয় জন সহকারী অধ্যাপক ও এমপিওভুক্ত শতাধিক সিনিয়র প্রভাষক এবং সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও একজন ডেমোনেষ্ট্রেটর ও দুই জন এডহক ভিত্তিতে নিয়োগকৃত জুনিয়র শিক্ষক ও তিন জন প্রভাষককে এই পদে নিয়োজিত করা হয়েছে। কোনোরকম শিক্ষাগত প্রশিক্ষণহীন এই কো-অর্ডিনেটরদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে সহকারী অধ্যাপকদের চেয়ে তিনগুণ বেশি। প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত এই বেতন ছাড়াও পরীক্ষার ডিউটিসহ অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয় তাদের অন্যান্য শিক্ষকদের চেয়ে  ৪/৫গুণ বেশি। অথচ এই কো-অর্ডিনেটরদের ক্লাস নিতে হয় না। তারা নিজ কক্ষে বসে ক্লাস মনিটরিংয়ের নামে সাধারণ শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি ও পাঠদান কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। কলেজের অধ্যক্ষ, নিজের মালিকানাধীন আরো সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাজে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকায় এখানে গড় হাজির থাকেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কো-অর্ডিনেটরেরা প্রতিষ্ঠান চালানোর নামে কলেজের স্বভাবিক কার্যক্রম দুর্বিষহ করে তুলেছে। দেশের কোনো কলেজে এ ধরনের কো-অর্ডিনেটর পদ নেই। পরিশেষে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সমীপে বিনীত আবেদন এই যে, কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা ও অভিজ্ঞ সিনিয়র শিক্ষকদের সম্মানজনক অবস্থা বজায় থাকার স্বার্থে অবিলম্বে অবৈধ কো-অর্ডিনেটর পদ বিলুপ্তির ব্যবস্থা করা হোক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক