প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটে আমাদের নির্বাচিত করেছে। জনগণকে দেয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করবো। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ‘ডিএসসিএসসি ২০১৮-২০১৯ কোর্সের’ গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সম্মান পাচ্ছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। জাতির পিতা স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশ। সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতির উন্নয়নে এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতায় আরো অবদান রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সততা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর সফলতায় সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্য দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যাতে আমরা উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিতে পারি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশংসনীয় অবদান রাখছেন। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও তাদের অবদান প্রশংসনীয়। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন নতুন পরিবর্তনের ফলে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও দায়িত্বে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যাপীঠ থেকে ‘পিএসসি’ ডিগ্রি অর্জন, যেকোনো সামরিক অফিসারের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। আজ যারা সাফল্যের সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করে গ্র্যাজুয়েট হলেন, তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিবাদন।’ তিনি বলেন, ‘আমি একইসাথে আপনাদের জীবনসঙ্গিনীদেরও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনাদের এ সাফল্যের পেছনে তাদেরও অনেক অবদান রয়েছে। জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রদ্ধা জানাই মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাই সশস্ত্র বাহিনীর বীর শহীদদের প্রতি যারা দেশের শান্তি রক্ষার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তি মিশনে প্রাণ দিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আপনারা সমর বিজ্ঞানের ওপর উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেছেন। এ প্রশিক্ষণ অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালনে এবং যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনাদের আরও আত্মপ্রত্যয়ী হতে শেখাবে। ভবিষ্যতে বৃহত্ নেতৃত্ব প্রদানে আপনারা নিজেদের প্রস্তুত রাখবেন। সততার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবেন।’ তিনি বলেন, এ বছর মোট ১১ জন মহিলা অফিসার গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা অফিসারের কোর্সে অংশগ্রহণ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আশা করি, মহিলা অফিসারদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্টাফ কলেজের বহুতল একাডেমিক ভবনসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে গতিশীল করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কলেজের প্রশিক্ষণ কলেবরকে আরও আধুনিকায়ন করবে।’
কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রীবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, ভারপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: সামছুল হক, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এ্যাডমিরাল এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, বিদেশী কূটনীতিকবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ বছর ডিএসসিএসসি ২০১৮-২০১৮ কোর্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৮ জন অফিসার, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২৯ জন অফিসার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ২৩ জন অফিসার ও চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, লেবানন, লাইবেরিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, সৌদিআরব, সিয়েরা লিয়ন, শ্রীলঙা, তানজানিয়া, উগান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাম্বিয়া থেকে আগত ১৯টি দেশের ৪৫ জন অফিসারসহ সর্বমোট ২১৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অফিসার অত্র প্রতিষ্ঠান হতে গ্র্যাজুয়েশন লাভ করছেন ।
এ পর্যন্ত এ কলেজ থেকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ৩৯০২ জন অফিসার, ০৫ জন পুলিশ অফিসার এবং ৪২টি বন্ধুপ্রতীম দেশের ১১১১ জন বিদেশী অফিসার কোর্স সম্পন্ন করেছেন।