সৌন্দর্য, তিন অক্ষরের এই শব্দটির মাঝে আছে মুগ্ধতা। শুধুমাত্র বাহ্যিক আকর্ষণটাই নয় বরং আপন সৌন্দর্য ব্যক্তির অভ্যন্তরে। তবে বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাগৃহে আমরা সৌন্দর্যের আসল সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছি নাতো? আমাদের জাতিগত বৈষম্য নিজেদের লিঙ্গ পরিচয়, বৈচিত্র্য আর স্বীকৃতির মাঝেই সীমাবদ্ধ। সমাজের সকলেই যে এক স্রষ্টার সৃষ্টিতে অনন্য এটা আমরা ভুলে যায় হয়ত! লিঙ্গের বিভেদে আমরা সমাজের এক স্তরের মানুষকে কার্পণ্যের ছলেই 'হিজড়া'- নামে সম্বোধন করি।
তবে না, সমাজের এ মানুষগুলোকে নিয়ে ভাবার মতো মানুষও আছেন আমাদের মাঝে। তেমনি ব্রত নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন সৈয়দা জায়না বিনতে হাবিব। পড়াশোনা শেষ করার পরই এই বিষয়ে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জায়না। যার ফলে আজ ফ্লেক্সবিজের জয়জয়কার!
এ বিষয়ে তিনি বলেন, শুরুতে, আমি সমাজের এই বিশেষ সম্প্রদায়ের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলাম। তারপর আমি বুঝতে পারলাম, একমাত্র আমিই সমর্থন করছি না, অনুরূপ প্রত্যয়ে এগিয়ে এসেছেন আমার মতো অনেকেই। তখনই আমি দৃঢ়ভাবে আমার অগ্রগতির সিদ্ধান্ত নিলাম। দুস্থদের অধিকারকে উন্নীত করার পরিকল্পনা। সমাজের তৃতীয় লিঙ্গ বলে বিবেচিত মানুষ যারা ক্রমাগত অবহেলিত হয়, যুগের বেশির ভাগ সময় ধরে যারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে আমরা অনেকেই হয়ত জানি না, পরিবার ও সমাজের ধারণা পাল্টে দিয়ে এই মানুষগুলোও পারে আলোর পথ দেখাতে।
সমাজের বিশেষ গোষ্ঠীর উপহাসে তারা অনেকেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছেন। এর ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়। তিনি আমাদের সমাজের এই বিশেষ শ্রেণির মানুষগুলোকে নিয়ে তাদেরকে মডেল বানিয়ে বধূ হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন এবং বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে, তারাও সৌন্দর্যের দিক থেকে পিছিয়ে নেই। যখনই আমরা কোন বধূকে নিয়ে আলোচনা করি, আমরা তাকে ফর্সা, চর্মসার এবং লম্বা বলে উল্লেখ করি। একরকম বিশেষণগুলো থেকে ভিন্ন কিছু একটি 'সুন্দরী বধূ' এর আদর্শ ধারণাকে উপস্থাপন করে না। তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে নারীর সৌন্দর্য সম্পর্কে জনসাধারণের পূর্ব-ধারণা করা, পাশাপাশি সমাজের উপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি ভেঙে ফেলা।
এ বিষয়ে জায়না হাবিব বলেন, আমি বিশ্বকে দেখাতে চাই, একজন ট্রান্স-নারীও একজন সুন্দরী বধূ হতে পারে, প্লাস-সাইজের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী মেয়েটাও অত্যাশ্চর্য হতে পারে এবং আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে দুষ্প্রাপ্য মেয়েকে দেখতে পাই , তারা যেকোনো দিনই সুন্দর দেখাতে পারে। সুন্দর শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য ন্যায্য এবং চর্মসার শব্দ দুটি কখনই যোগ্যতা হতে পারে না।
অনলাইন প্লার্টফর্ম ফ্লেক্সবিজ-এর সত্ত্বাধিকারী জায়না হাবিব। তার হাত ধরেই ঢাকা গ্লোবাল সংলগ্ন স্থানে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে অগ্রযাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। অনলাইন প্লার্টফর্ম বলে পরিচিত হলেও বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শুট কিংবা ইভেন্ট পরিচালনা করে তারা। প্রডাকশন কিংবা মার্কেটিং দুটি ব্র্যান্ড হিসেবেই তারা পরিগণিত।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি