করোনার দুঃসময়ে বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসা সেবায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলো নিউইয়র্কে বসবাসরত শেরপুরবাসীর আঞ্চলিক সংগঠন প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতি। স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত সংগঠনের বার্ষিক বনভোজনে সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে করোনার চিকিৎসা সহায়তা দিতে তহবিল সংগ্রহ করা হয়। শিগগির এই তহবিল দেশে পাঠানো হবে।
নিউইয়র্কের বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কে অনুষ্ঠিত প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির বনভোজনটি ছিল পূর্বনির্ধারিত। তবে বাংলাদেশের বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বনভোজনে আনন্দে মেতে ওঠার পরিবর্তে প্রাধান্য পায় দেশের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি।
শেরপুর জেলা সমিতির প্রধান উপদেষ্টা এবং আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের (এবিপিসি) কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম জানান, প্রতিবছর সমিতির পক্ষ থেকে বনভোজনের আয়োজন করা হয়। গত বছর করোনার প্রকোপ থাকায় কোনো অনুষ্ঠানই হয়নি। এ বছর প্রকোপ কমে যাওয়ায় বনভোজনের দিন-তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতি বনভোজনে মিলিত হয়ে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের করোনার চিকিৎসা সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, সমিতির সদস্যদের দেওয়া অর্থ খুব শিগগির শেরপুর জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের যদি ন্যূনতম উপকারে হয় তাহলে আমাদের এ উদ্যোগ সফল হবে।
তিনি জানান, প্রবাসীরা বাংলাদেশের দুঃসময়ে সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছে। শেরপুর জেলা সমিতির মত আরও অনেক সংগঠন ইতিমধ্যে এগিয়ে এসেছে বলে জানান আবুল কাশেম।
এদিকে বনভোজনের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র। শুরুতে বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আবুল কাশেম। এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ছামেদুল হক ঝন্টু।
সংগঠনের সভাপতি মামুন রাশেদের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রিয়েলটর কামরুজ্জামান বাচ্চু, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, বনভোজন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী নাইস চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক শহীদুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম সদস্য সচিব হিসাম হোসেন প্রমুখ।
বনভোজন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা সাদী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সাবেরা জামান রুচি, মো. রফিকুল ইসলাম রাসেল, মোহাম্মদ ফারুক মিয়া, মোস্তফা সাদী, ইয়াসিন আহমেদ ফাহিম, মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এমআর