বিপিএলের এটি ষষ্ঠ আসর। তামিম ইকবালকে একটি ফাইনাল খেলতে অপেক্ষা করতে হলো এই পর্যন্ত। সাত বছর পর খেলার সুযোগ পেলেন বিপিএল ফাইনালে। শুধু সুযোগই পাননি নিজেকে চেনালেন অন্যভাবে। ১৪১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে নিজেকে ভিন গ্রহের ক্রিকেটার হিসেবেই যেন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন।
শেষ আসরে তামিম খেলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। তার দল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরে বিদায় নেয়। তাই অপেক্ষার প্রহরটা বেড়েছে আরো এক দফা।
বিপিএলের প্রথম আসরে তামিম খেলেছেন চিটাগাং কিংসে। ইনজুরির কারণে বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি সেবার। তার দল খেলতে পারেনি ফাইনালে। দ্বিতীয় আসরে দল বদলে দুরন্ত রাজশাহীকে নিয়ে যেতে পারেননি বেশিদূর। তৃতীয় আসরে ফের নিজ এলাকা চিটাগাং ভাইকিংসে যোগ দিয়ে হয়নি স্বপ্ন পূরণ। একই অবস্থা চতুর্থ আসরে। যদিও সেবার নিজে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৪৭৬ রান করেছিলেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে গত আসরে প্রথমবার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। টানা দ্বিতীয়বার দলটিতে যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত পূরণ করলেন বিপিএলের স্বপ্নের ফাইনালে খেলার আশা।
নিজের সেই প্রথম ফাইনালে এসে যেন চমকে দিলেন ভক্ত-সমর্থকদের। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান এভাবে ব্যাট করছে যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না! মনে হয়েছে ক্রিস গেইলদের মতো কেউ হয়তো ব্যাট করছে দানবীয় কায়দায়! তামিম প্রমাণ করে দিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও পারে।
তাই তো নিজের প্রথম ফাইনালকেই রাঙ্গিয়ে রাখলেন অন্যভাবে। চলতি আসরে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন সেঞ্চুরি। শুধু সেঞ্চুরি নয় ৬১ বল থেকে করেছেন ১৪১ রানের এক অবিশ্বাস্য অগ্নিঝরা ইনিংস। যেখানে ১০টি চার ও ১১টি ছক্কার মার মেরেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ঢাকার ১৮০০ আমলাকে প্রশিক্ষণ দেবে দিল্লি
সেই সুবাদে এক ইনিংসে গড়েছেন অনেক রেকর্ড। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান এখন তামিম। বিপিএলে এটি তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি। আর ফাইনালে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন সেঞ্চুরি।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে বড় ইনিংসও এটি। ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টিতে ইউসিবি-বিসিবি একাদশের হয়ে নিজের করা ১৩০ রানের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন তামিম। বিপিএলেও এটি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সাব্বিরের ১২২ রানের রেকর্ড আজ ভেঙে দেন তামিম। সেই সাব্বিরের করা ৯ ছক্কার রেকর্ডও আজ ১১ ছক্কা দিয়ে ভাঙেন তামিম।
ইত্তেফাক/কেআই