নারীর ক্ষমতায়নে গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়নের তাগিদ

গৃহস্থালি সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজন। তারা মনে করেন, নারী তার জীবনের অধিক সময় গৃহস্থালি কাজে ব্যয় করলেও তার কোনো স্বীকৃতি নেই। ফলে সংসারে তার মর্যাদা কম, নানা রকমের নির্যাতনের শিকার হয়। এই অবস্থা পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, পরিবারিক দায়বদ্ধতা এবং সচেতনতা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তারা।

গতকাল শনিবার ডেইলি স্টার ভবনে ‘রিকগনাইজেশন অব উইমেন্স আনকাউনটেড ওয়ার্ক : ইপ্লিকেশন ফর রিডাকশন অব জেন্ডার বেইজ ভায়োলেন্স’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ সব মন্তব্য করেন তারা। উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ‘মর্যাদায় গড়ি সমতা’ প্রচার অভিযানের আওতায় দ্যা ডেইলি স্টারের সঙ্গে যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, ডেইলি স্টারের এসোসিয়েট এডিটর শাহীদুল আনাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, কেয়ার বাংলাদেশ-এর পরিচালক হুমায়রা আজিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উ্ইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন সহযোগী অধ্যাপক সানজিদা আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন এমজেএফ-এর জেন্ডার বিষয়ক উপদেষ্টা বনশ্রী মিত্র নিয়োগী।

আয়শা খানম বলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। তাই নারীর কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিকতার জন্য একদিনই তা অর্জন করা যাবে না। অনেক রকম বাধা আসবে। তিনি পারিবারিক সচেতনতার কথা উল্লেখ করে পাঠ্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন।

জিডিপিতে এর একটা প্রতিফলন দাবি করে শাহীন আনাম বলেন, সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করতে না পারলেও এটি স্যাটেলাইট আকারে করলে বোঝা যাবে এই স্বীকৃতি না দেওয়া কাজের মূল্যমান কত। জিডিপিতে এর অংশ জানতে তা সহযোগিতা করবে। আমাদের উদ্দেশ্য ঘরের কাজে অংশগ্রহণকে মূল্যায়ন করে নারীর মর্যাদা বাড়নো এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কমিয়ে আনা। তিনি এ বিষয় ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন।

রোকেয়া কবীর নারীর ঘরের কাজকে দাসপ্রথার নামান্তর উল্লেখ করে বলেন, গণতন্ত্র ঘরে বাইরে সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি বলেও তিনি মনে করেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সরকারি হিসাব মতে— ৮৭ শতাংশ নারী ঘরে নির্যাতনের শিকার। ৬৫ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়। তারা এই নির্যাতনের মধ্যে চলে আসে। শ্রম বাজারে ৩৭ শতাংশ নারী ছিল, এখন তা ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। কর্মক্ষেত্র থেকে নারীর ঝরেপড়া রোধ করতে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নারীর গৃহস্থালি সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি, পুনর্বণ্টন ও হ্রাস করতে হবে।