বেপরোয়া মনোভাবই সড়কে ঘটায় বিশৃঙ্খলা

 

কোনো ব্যবস্থাই সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারছে না। দিন দিন দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। আর দুর্ঘটনা মানেই হতাহতের আহাজারি। প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২০-২৫ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে এবং আহতের সংখ্যা অসংখ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক একটি দুর্ঘটনা এক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অসচেতনতা, অবহেলা, ব্যাপক দুর্নীতি এবং সকল পক্ষের বেপরোয়া মনোভাবেই এই মহাসংকটের সৃষ্টি। কাজেই নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সাময়িক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ, সময়ে সময়ে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন বা অভিযান পরিচালনার মতো প্রতীকী ব্যবস্থার দ্বারা এই সমস্যার সমাধান বা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা  সম্ভব নয়। যেহেতু সমস্যাটি অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘদিনের, তাই রাতারাতি এই সমস্যার সমাধানও সম্ভব নয়।  যদিও সড়ক দুর্ঘটনা একেবারে বন্ধ করা যাবে না, কিন্তু বেপরোয়া মনোভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে প্রথমেই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এখনো আমাদের দেশে যে কোনো সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত চালককেই দায়ী করা হয়ে থাকে। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যানবাহনের ফিটনেসের দুর্বলতাকে। অথচ যানবাহনের ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স ঠিক থাকা সত্ত্বেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো চালকই ইচ্ছে করে দুর্ঘটনা ঘটায় না। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চালকের অদক্ষতা, অবহেলা, বেপরোয়া গতি, যানবাহনের ত্রুটি, সড়ক-মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা ইত্যাদি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এছাড়াও সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের ওপর অর্থাত্ বিআরটিএ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মালিক-শ্রমিক—তাঁরাও কি তাঁদের দায়িত্ব-কর্তব্য ঠিকভাবে পালন করেন? সারা দেশের গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরিবর্তে এই খাত থেকে বিপুল অর্থ উপার্জনই যেন সকল পক্ষের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সকল পক্ষকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যে কোনো দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালক বা মালিককে বিচারের আওতায় আনলেই চলবে না বরং বিআরটিএ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়ী তদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। মালিক, চালক ও শ্রমিকদের পাশপাশি যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যেও বেপরোয়া মনোভাব লক্ষ করা যায়। আইন ও নিয়ম-নীতি অমান্য করার এই সংস্কৃতি থেকে সকলকেই বেরিয়ে আসতে হবে। যথাযথভাবে আইনের প্রয়োগ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলেই দীর্ঘদিনের এই বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে এবং দেশের মূল ধারার গণমাধ্যমকেও এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার এই জাতীয় সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ফরিদপুর