চিকিত্সক সংকট ও অনিয়মে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা ব্যাহত

ইত্তেফাক ডেস্ক

চিকিত্সক সংকট, কর্মস্থলে অনুপস্থিত, ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

বাগাতিপাড়া (নাটোর): বাগাতিপাড়া হাসপাতাল অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্টাফদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ, বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করে অর্থ আত্মসাত্, ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার, স্টেশনে না থেকে বাইরে প্র্যাকটিস, সরকারি গাড়ি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার, স্টেশনে আবাসিক ডাক্তার না থাকাসহ নানান অভিযোগ উঠেছে।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, আমি ঠিকঠাকভাবেই দায়িত্ব পালন করছি। কর্তৃৃপক্ষের নির্দেশনানুযায়ী সকল কাজ সম্পাদন করা হয়। আর আমার এখানে বাসা নেওয়া আছে।

অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেন, এটা দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ আবাসিক চিকিত্সক হাসপাতালে থাকেন না। তার দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম ও ভুয়া ডিগ্রির বিষয়ে সিভিল সার্জন (নাটোর) ডা. আজিজুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ শুনেছি। বিষয়গুলো খতিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শিশু রোগ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ লিখার বিষয়টি আমি নিজেও তাকে নিষেধ করেছি।

চৌমুহনী (নোয়াখালী): চৌমুহনী শহরে অবস্থিত নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত হাসপাতাল ভবন নির্মাণ হয়নি। শিক্ষকদের কোনো আবাসন নেই। ছাত্র-ছাত্রীদের অর্ধেকের বেশি একাডেমিক ভবনে ঠাঁই নিতে হয়। শিক্ষার্থীদের ১২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা নিতে হয়। তাছাড়া নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত।

এদিকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এ পর্যন্ত ভবন নির্মাণের কোনো লক্ষণ নেই।

এ ব্যাপারে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. আবদুচ সালাম জানান, হাসপাতাল ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। বেসিক বিষয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট। আবাসন সমস্যা প্রকট। শিক্ষার্থীদের অর্ধেক সুরাহা হলেও শিক্ষক ও স্টাফদের কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর): প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও সরঞ্জামাদির অভাবে পার্বতীপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন শ্বেত হস্তিতে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় আড়াই’শ রোগী বহির্বিভাগে চিকিত্সা নিতে আসেন। কিন্তু জরুরি বিভাগীয় কোনো মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় রোগীরা চিকিত্সা পাচ্ছেন না। সহকারীরাই দায়সারা কাজ সেরে বাইরের কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালে যেতে বলেন। এর মধ্যে অনেক রোগী টাকার অভাবে কোনো ক্লিনিক বা বড় হাসপাতালে যেতে পারেন না। হাসপাতালে সরকারিভাবে কোনো কোনো ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় তার কোনো তালিকা নেই।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুল ইসলাম ডাক্তার সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতি মাসের প্রতিবেদনে ডাক্তার সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুস সাহেব জানান, এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাই ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ভালো ডাক্তাররা থাকতে চায় না, কারণ এখানে অবসর সময়ে চেম্বারে তেমন রোগী পাওয়া যায় না।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): ফুলবাড়ী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুপস্থিত থাকায় চিকিত্সকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার হাজিরা খাতায় লাল কালি বসিয়ে দিলেন রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. অমল চন্দ্র সাহা। তাদের বিরুদ্ধ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মেশকাতুল আবেদ জানান, যারা অনুপস্থিত ছিল তাদের সবাইকে শোকজ করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় মহাপরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. অমল চন্দ্র সাহা জানান, ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যাদের কর্মরত অবস্থায় পাওয়া যায়নি তাদের হাজিরা খাতায় লালকালি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরর্বতীতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।