ভবঘুরে রুশোর বিপিএল জয়

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

দক্ষিণ আফ্রিকার উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ দেখা যাচ্ছিল তার মধ্যে। কিন্তু নিজের দেশের জাতীয় দলের সাথে কোনো দিনই সেভাবে বনিবনা হলো না রাইলি রুশোর।

২০১৬ সাল পর্যন্ত তবু খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে। ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজেও ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন। শেষ ম্যাচেও ১২২ রানের এক ইনিংস খেলেছিলেন রুশো। তারপরও সম্পর্কটা টিকলো না। কোলপ্যাক চুক্তিতে সই করে চলে এলেন ইংল্যান্ডে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট থেকে ব্রাত্য হয়ে গেলেন। তবে এক দেশের বিনিময়ে সারা দুনিয়া হয়ে গেলো রুশোর। হয়ে উঠলেন ভবঘুরে এক ক্রিকেটার।

নানা দেশের নানা ফ্রাঞ্চাইজি লিগে ঘুরতে ঘুরতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এসেছিলেন আগের বছরই। কিন্তু সে বছর এখানে রানটা খুঁজে পাননি। অপেক্ষায় ছিলেন যেনো এই বছরটার জন্য। অবশেষে এবার রুশো বিপিএলকে নিজের করে নিয়ে তবেই ফিরলেন।

না, রুশোর দল রংপুর রাইডার্স এবারের বিপিএল জিততে পারেনি। এমনকি ফাইনালেও উঠতে পারেনি। কিন্তু ব্যাট হাতে এবারের আসরের সেরা খেলোয়াড় অবশ্যই রাইলি রুশো। বিপিএলের ইতিহাসে এক আসরের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড আগেই ভেঙে দিয়েছিলেন। শেষ ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। তার আগে ১৩ ম্যাচে ৫৫৮ রানের বিস্ময়কর স্কোর করে গেছেন। বিপিএলের ইতিহাসে এক আসরে পাঁচশ রান করা প্রথম ক্রিকেটার রাইলি রুশো। এবার তিনি ১৩টি ম্যাচে ৫টি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি করেছেন। বাকী ম্যাচগুলোতেও ছিল তার পরিষ্কার ছায়া। মোদ্দাকথা রান করার দিক থেকে এবারের আসরে রুশোর আশেপাশে কেউ ছিলেন না।

দক্ষিণ আফ্রিকার যুব ক্রিকেট থেকে উঠে এসেছেন রুশো। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকা অবস্থায়ই তাকে ভবিষ্যত্ তারকা বলে মনে করা হতো। টানা চার মৌসুমে চল্লিশের ওপরে গড়ে রান করেছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। তারপর ডাক পেয়েছেন ‘এ’ দলে। যুব দল ও ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফরও করেছেন। সেখানে অসাধারণ পারফরম্যান্স করার পরও টেস্ট দলে সুযোগ হয়নি।

প্রথম ঝামেলাটা হলো ২০১১ সালে। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরো একবার হেরে বিদায় নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ঘটনায় আর দশজন দক্ষিণ আফ্রিকানের মতো দুঃখ পাওয়া রুশো টুইটারে নিজেদের দলকে ‘চোকার্স’ লিখেছিলেন। দ্রুতই সেই টুইট মুছে ফেললেও এটা তাকে দল থেকে অনেক দূরে রেখেছিল। ২০১৪ সালে অবশেষে জাতীয় দলে ডাক পান।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩৬টি ওয়ানডেতে ১২৩৯ রান করেছেন। পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ১৫টি টি-টোয়েন্টিতে ৩২৭ রান করেছেন। আর ক্যারিয়ারটা লম্বা হলো না। কারণ নিজেই বেছে নিলেন জাতীয় দল ছাড়ার পথ। ইংল্যান্ডে চলে আসার পর বৈশ্বিক ক্রিকেটার হয়ে গেছেন। এখন বিভিন্ন লিগ খেলছেন। গত মৌসুমে খুলনা টাইটান্সের হয়ে খেলেছেন। সেখানে অবশ্য রান করতে পারেননি। এবার রংপুর রাইডার্সের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপে যুক্ত হয়েছিলেন। সেখানে নিজেকে ধরে রাখাটাই ছিল কঠিন। রুশো শুধু জায়গা ধরে রাখেননি। সবাইকে ছাপিয়ে তবে বিপিএল শেষ করেছেন।