ট্রেনের হুইসেল বাজছে। আসছে দ্রুতগতির ট্রেন। লেভেল ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান দু’দিকেই ক্রসিংবার নামিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তা উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে রেলক্রসিং পার হচ্ছে যে যার মতো। নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন, ১নং রেলগেট, ২নং রেলগেট, বালুর মাঠ, গলাচিপা, পালপাড়া কিংবা চাষাড়া রেলগেটসহ নগরীর প্রত্যেকটি রেলক্রসিংয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে হরহামেশা। শুধু পারাপার নয়, রেললাইনের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বাজার। ফলের দোকান, চা-দোকান, থান কাপড়ের দোকান, সুতার দোকান, কাঁচাবাজার রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। ট্রেনের হুইসেল পেলে সবাই তখন দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। একটু অসতর্ক হলেই ট্রেনে কাটা পড়তে পারে যে কেউ। এছাড়া রেল লাইনের পাশে অনেক বসত বাড়ি ও বস্তিও গড়ে উঠেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পথচারী থেকে ব্যবসায়ী সকলেই অসতর্কভাবে চলাচল করছেন। ট্রেন আসার শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও কেউ কেউ রেললাইন থেকে সরছেন না। ট্রেনের গতির সাথে অনেকে পাল্লা দিয়ে রেললাইন পারাপার হতে ব্যস্ত। অনবরত ট্রেনের হুইসেলও তাদের পারাপারে ব্যাঘাত ঘটাতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে কেন রেললাইন পার হলেন এমন প্রশ্নে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আসলে খেয়াল করতে পারিনি। লেভেল ক্রসিং বার ফেলার পরপরই ভুলবশত দুই ক্রসিংয়ের মাঝে পড়ে গেছি। তাই দৌড়ে পার হওয়া ছাড়া গতি ছিলো না।’ দিগুবাবুর বাজার এলাকায় রেললাইনের পাশ ঘেঁষে তরিতরকারি বিক্রি করেন আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘ট্রেন আসলে মানুষ দিক-বিদিক ছোটাছুটি করেন। আমরাও আমাদের মালামাল নিয়ে নিরাপদে সরে আসি। সময়ের চেয়ে যে জীবনের মূল্য বেশি একথা বেশির ভাগ মানুষই মানতে চান না। ’
চাষাড়া রেল ক্রসিংয়ে প্রতিবন্ধক নামানো অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে রেলক্রসিং পারাপার হওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. বারেক খানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আসলে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হওয়া ঠিক না। কিন্তু একটা তাড়াহুড়ো ছিল তাই পার হয়েছি। নগরীর ২নং রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান মো. বোরহান জানান, আমরা যখন প্রতিবন্ধক ফেলে দেই তারপরও যদি কেউ ঝুঁকি নিয়ে রেল ক্রসিং পার হয় তখন আমরা বাধা দেই। যদি কেউ বাধা অমান্য করে পার হয় তাহলে তো আমরা কিছু করতে পারি না। অনেক সময় আমাদের সাথে অনেকের তর্কাতর্কিও হয় এ নিয়ে।
চাষাড়া রেলস্টেশন মাস্টার মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘ট্রেন আসলে দুই পাশের ব্যারিয়ার নামিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সিগন্যাল শব্দ বাজতে থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা দেখেও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। তাদের অসাবধানতার জন্য প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতি মাসেই ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে লোকজন। এদিকে রেললাইনের ২ পাশে গড়ে উঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।