বিভাগীয় প্রার্থীদের বঞ্চিত করে ২০৯ পদে তড়িঘড়ি নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এক্ষেত্রে চাকরির আচরণবিধিমালা কিংবা আদালতের নির্দেশনা কোনোটাই মানছে না সরকারি এ সংস্থাটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। নিয়োগ কার্যক্রমে আমার অংশগ্রহণ নেই। আদালতের নির্দেশনা বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ কমিটি এ বিষয়ে দেখভাল করছে। এ বিষয়ে তিনি সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন। তবে বিসিক সচিব একেএম মাসুদুজ্জামানকে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিসিক সূত্র জানায়, গত ১৩ আগস্ট ৪৪ ক্যাটাগরিতে ২০৯টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিক। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ হতে ৩য় গ্রেডে পদ ৬৩টি। দেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির মাধ্যমে ৬ষ্ঠ হতে ওপরের পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। কিন্তু বিসিক কর্তৃপক্ষ সেটাকে আমলে না নিয়ে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।
বিসিক কর্মকর্তারা জানান, বিসিক প্রবিধানমালা ১৯৮৯ প্রবিধান ৩ এর উপ-প্রবিধান (২) এর ১৯৯৪ এর সংশোধনী মোতাবেক যে কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রার্থীদের বয়সসীমা ও অভিজ্ঞতা শিথিল করা হয়েছে এবং বিভাগীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে তার প্রতিফলন না থাকায় কর্মকর্তারা গতবছরের ৮ আগস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে চালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন ১০০৯/২০১৯ দায়ের করে। আদালত যুক্তিতর্ক শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ হবে না এ মর্মে রুল এবং নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। এরপরও আদালতে নির্দেশকে উপেক্ষা করে পরের দিন ৪ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে বিসিক এবং আগামী ১১ মার্চ মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিসিক এর সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফিতাখারকে বদলি করে ওই পদে ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সরদার আবুল কালামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু মুশতাক হাসান মুহ. ইফিতাখার বিসিক ত্যাগ করেননি। পরে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব সরদার আবুল কালামকে ওই বছরের ১৮ অক্টোবর বিএসটিআই এর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর গত ২০ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরো একটি প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মোস্তাক হাসান এনডিসিকে বিসিক চেয়ারম্যান হিসেবে পদায়ন করা হয়। যদিও তিনি এখনও বিসিকে যোগদান করেননি।
সূত্র জানায়, সদ্য বদলী হওয়া বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফিতাখারের স্বেচ্ছাচারী ও অনিয়মের বিষয়ে বেশকিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর এ সকল অভিযোগের ব্যাখ্যা চায় মন্ত্রণালয়। তিনি মন্ত্রণালয়ে তার ব্যাখা প্রদান করার পর গত ২৩ জানুয়ারি এ অফিস আদেশ জারি করে শিল্প মন্ত্রণালয়।
বিসিক কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের নির্দেশনা ও চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘনের নেপথ্যে রয়েছে সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ: ইফিতাখার। এ বিষয়ে সদ্যবিদায়ী বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ: ইফিতাখারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজী হননি।