তিন দিক থেকে খাল এসে মিশেছে মোহনায়। সেখানে ছোট ছোট নৌকা। নৌকা ভর্তি কাঁচা পাকা পেয়ারা। ভাসমান পেয়ারা হাট। নৌকায় নৌকায় পেয়ারা বিক্রি হয়। স্থলভাগের প্রয়োজন হয় না। পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার আটঘর কুড়িয়ানাতে এই হাট বসে। গাছ থেকে পেয়ারা পাড়া হয়। জমা করা হয় নৌকায়।
সেই নৌকা চালিয়ে কৃষক হাটে যায়। ছোট ছোট অসংখ্য নৌকা হাটে দেখা যায়। সব নৌকা দেখতে একই রকম। তাতে পেয়ারার দৃষ্টিনন্দন সমারোহ। চোখ জুড়িয়ে যায়। পাইকাররাও নৌকা নিয়ে আসেন। পেয়ারা কিনে নৌকায় করে চলে যান। শত বছর ধরে এভাবে পেয়ারার হাট বসছে। দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। পেয়ারার হাট তাদেরকে মুগ্ধ করে। এত বড় দেশি পেয়ারার হাট আর নেই।
আটঘর কুড়িয়ানার পেয়ারাকে বলা হয় বাংলার আপেল। খেতে সুুস্বাদু, পুষ্টিগুণে অনন্য। রাসায়নিক কেমিক্যালমুক্ত। প্রচলিত আছে—কালীচরণ মজুমদার নামে এক ব্যাক্তি ১৫০ বছর আগে ভারতের হিন্দুদের তীর্থস্থান গয়া থেকে পেয়ারার বীজ এনে আটঘর কুড়িয়ানা গ্রামে চাষ শুরু করেন। কয়েক হাজার মানুষ প্রায় ৩১ হাজার হেক্টরজুড়ে পেয়ারা চাষ করছেন। এখানকার উত্পাদিত পেয়ারা ট্রাক ও লঞ্চে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে আটঘর কুড়িয়ানাবাসীর অবদান আছে। এখানকার পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান করেন। নিজেরা সংগঠিত হন। কিছুটা দুর্গম হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদাররা পেয়ারা বাগানে ঢুকতে সাহস পায়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের আটঘর কুড়িয়ানার মানুষ সহযোগিতা করে। যদিও এর চড়া মাশুল দিতে হয় তাদের। পাকহানাদারা এখানকার অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে।
ঢাকা থেকে লঞ্চে বা বাসে করে স্বরূপকাঠী; তারপর সেখান থেকে ট্রলারে করে ভাসমান হাট দেখতে যাওয়া যাবে। মুহাম্মদ শফিকুর রহমান