২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় অভিনেতা ও মডেল সিদ্ধার্থ শুক্লা মারা যাওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে উঠে এসেছে তার প্রেমিকা শেহনাজ গিলের নাম। যদিও মৃত্যুর খবরের সঙ্গে জানা গিয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকালে শুটে ব্যস্ত ছিলেন শেহনাজ। প্রেমিকের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শুট ছেড়ে ছুটে আসেন সিদ্ধার্থর বাসায়। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, নতুন তথ্য। শেহনাজই প্রথম ব্যক্তি যিনি সিদ্ধার্থকে অজ্ঞান অবস্থায় প্রথম দেখতে পান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, পুলিশের কাছে শেহনাজ নিজেই জানিয়েছেন এই তথ্য।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শেহনাজই প্রথম সিদ্ধার্থকে কুপার হাসপাতালে নিয়ে যান। সঙ্গে ছিলো প্রয়াত অভিনেতার পরিবার। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে সিদ্ধার্থের বাড়িতেই ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা নাগাদ সিদ্ধার্থের ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, সাড়া দিচ্ছেন না। দ্রুত শেহনাজ সিদ্ধার্থর মাথা কোলে তুলে নেন। পাগলের মতো তাকে ডাকতে থাকেন। যখন বুঝতে পারেন, সিদ্ধার্থের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে, তখন তিনি ছুটে নিচের ফ্লোরে গিয়ে সিদ্ধার্থের মা ও বোনেদের খবর দেন। অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। এরপর সাড়ে ১০টায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সিদ্ধার্থকে। সেখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে শেহনাজের বাবা জানিয়েছেন, তার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাকে বলেছেন, ‘আমার কোলে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে সিদ্ধার্থ।’
এদিকে সিদ্ধার্থের পরিবার থেকে পুলিশকে জানিয়েছে, এই মৃত্যুতে কোনও রহস্য নেই। ‘অস্বাভাবিক’ বা ‘মানসিক অবসাদ’-এর মতো শব্দও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তার মৃত্যু নিয়ে কোনও রকম গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
সিদ্ধার্থ শুক্লার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার ওশিওয়ারা শ্মশানে শেষকৃত্য করা হয়। শ্মশানে প্রেমিককে শেষবারের মতো দেখতে যান শেহনাজ। সঙ্গে ছিলেন তার ভাই শাহবাজ। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন শেহনাজ।
পরিবারের বয়ানে, বুধবার রাতে খুবই চুপচাপ ছিলেন সিদ্ধার্থ। শরীরের ভেতরে তার অস্বস্তি চলছিলো। তাই রাতে অল্প খাবার খেয়ে নিজ ঘরে চলে গিয়েছিলেন। একটি ওষুধও খেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পর আর ঘুম থেকে ওঠেননি ‘বিগ বস’ সিজন-১৩ বিজয়ী এই তরুণ।
১৯৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্ম হয় সিদ্ধার্থ শুক্লার। মডেলিং দিয়েই পা রেখেছিলেন বিনোদন জগতে। ২০০৪ সালে টেলিভিশনে হাতেখড়ি এবং ২০০৮ সালে তিনি অভিনয় শুরু করেন। এদিকে, তার মৃত্যুতে বলিউড ও টলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।