রাজশাহীতে হঠাত্ বেড়েছে রসগোল্লার দাম

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত ‘রসগোল্লা’ রম্যরচনার নায়ক ‘চুঙ্গিওয়ালার’ কথা আমরা কমবেশি সকলেই জানি। বাঙালির রসগোল্লার প্রতি দুর্বলতার বিষয়টি হয়তো লেখক মুজতবা আলী তার ‘রসগোল্লা’ রম্যরচনায় তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন। বাঙালি ভোজন রসিকদের জন্য দুঃসংবাদ কি না—তা এই প্রতিবেদকের জানা নেই। তবে রাজশাহীর বাজারে হঠাত্ করেই বেড়েছে সবধরনের রসগোল্লার দাম। এক লাফে প্রতি পিস রসগোল্লা পাঁচ টাকা এবং কেজিতে ২০-৩০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রেতারা রসগোল্লার বাড়তি দাম কার্যকর করেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী শহরের দোকানগুলোতে দুই ধরনের রসগোল্লা বিক্রি হয়। একটি ‘সাধারণ রসগোল্লা’ এবং অপরটি ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’। ইতিপূর্বে সাধারণ রসগোল্লার কেজি ছিল ১৮০ টাকা। প্রতি পিস ১০/১২ টাকা। বর্তমানে সেই একই রসগোল্লা প্রতি পিস ১৫/২০ টাকায় এবং প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দামে। এছাড়া ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিক্রি হয় প্রতি পিস হিসেবে। আগে প্রতি পিস ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’ আকারভেদে ১৫-২০ টাকা এবং প্রতি কেজি ২২৫ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা এবং প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এ হিসেবে কেজিপ্রতি ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’র দাম বেড়েছে ৭৫ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

রাজশাহী শহরের কাজীহাটা বাজার (সিঅ্যান্ডবি) এলাকার সার্কিট হাউজ রোডের পাশের ফুটপাতের দোকানে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’ বিক্রি হয়। শহরের ছেলে-বুড়োসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ দল বেঁধে ঐ দোকানে ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’ খেতে যান। ফুটপাতের ঐ দোকানে বিকালে মিষ্টি তৈরি শুরু হয়। গরম গরম ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’র বেশির ভাগ রাত ১০টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। আর যতসামান্য মিষ্টি অবশিষ্ট থাকে সেগুলো পরের সারা দিনে ডালপুরির সঙ্গে বিক্রি হয়। গত শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী সোহরাওয়ার্দী তার এক বন্ধুকে নিয়ে সার্কিট হাউজ রোডের ফুটপাতের ঐ দোকানে ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’ খেতে যান। প্রত্যেকে তিনটি করে রসগোল্লা খেয়ে দোকানিকে ১০০ টাকার একটি নোট বের করে দেন। এসময় দোকানের মালিক আরো ২০ টাকা দাবি করেন। তিনি (দোকানদার) হাসতে হাসতে বলেন, ‘স্যার, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি পিস রসগোল্লার দাম পাঁচ টাকা করে বেড়েছে।’

রাজশাহী শহরের সব দোকানেই বিভিন্ন ধরনের রসগোল্লাসহ নানা আইটেমের মিষ্টি পাওয়া যায়। তবে রসগোল্লার সঙ্গে অন্যান্য মিষ্টির দামও একই হারে বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, চিনি, তেল ও জ্বালানিসহ মিষ্টি তৈরির কয়েকটি উপকরণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মিষ্টির দামের ওপর।

রাজশাহীর একটি মিষ্টির দোকানের মালিক মাহবুব আলম বলেন, ‘মিষ্টি তৈরির সবধরনের উপকরণের দাম বেড়েছে। কঠোর বিধিনিষেধের আগেও ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ছিল ২ হাজার ৬৫০ টাকা। এখন সেই চিনির দাম ৩ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আগে ৪৫ কেজির চারটি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ছিল ১২ হাজার টাকা। এখন একই এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ১৬ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া পাম তেল ও ময়দার দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, মিষ্টির মান ঠিক রাখতে দাম বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে বাজারে মিষ্টির দাম বাড়লেও গ্রাহকদের মধ্যে এর কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন। তিনি জানান, রবিবার দুপুরেও তিনি রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে শত শত মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে মিষ্টি কিনতে দেখেছেন। ভিড় দেখে মনেই হচ্ছে না যে, বাজারে সবধরনের মিষ্টির দাম বেড়েছে।

রাজশাহী শহরের কোর্ট এলাকার নামবিহীন ফুটপাতের দোকানে এবং মধ্যশহরের মালোপাড়ার জোড়াকালী মিষ্টির দোকানে অপেক্ষাকৃত কম দামে ভালো মানের রসগোল্লা পাওয়া যায়। রবিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব দোকানেও রসগোল্লার দাম বেড়েছে। তবে কোর্ট এলাকার দোকানে প্রতি কেজি রসগোল্লার দাম এখনো ১৬০ টাকা রয়েছে। আগে আরো কমদামে এসব দোকানে রসগোল্লা বিক্রি করতে দেখা গেছে। অর্থাত্ এসব দোকানিরাও কেজিতে রসগোল্লার দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।