ঢাকা উত্তরের এটুআই সেরা উদ্যোক্তা শিরিন

রাবেয়া বেবী

আনলাইনে যাবতীয় সেবা দিয়ে উদ্যোক্তার তকমা অর্জন করেছেন শিরিন জাহান। শুধু তাই নয় গত বছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এটুআই সেরা উদ্যোক্তার সম্মাননাও অর্জন করেন তিনি।

শিরিন জানান, তার প্রতিষ্ঠিত সিটি ডিজিটাল সেন্টার অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করা, ভিসা ফরম পূরণ করা, বিদ্যুত্-পানির বিল দেওয়া, নানা রকম আবেদনপত্র তৈরি করা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেবাপ্রাপ্তির ফর্ম পূরণ করাসহ সকল প্রকার অনলাইন সেবা প্রদান করে। এখন একটি বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্ট হয়ে মানুষকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে তার সেন্টার। পাশাপাশি মার্কেট প্লেসে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও রয়েছে তার খ্যাতি। বিটাক বাংলাদেশের হয়েও কাজ করছেন তিনি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) এর আওতায় শ্রমিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ অভিবাসন অনলাইন ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ সেবাও তার প্রতিষ্ঠান দিয়ে থাকে। অন্যরাও যেন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারে সে জন্য তিনি দিয়ে থাকেন অনলাইন ফ্রিল্যাসিং প্রশিক্ষণ।

ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে কিভাবে নিজেকে তৈরি করলেন প্রশ্ন করলে শিরিন জানান, আমি কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করি। পড়াশুনা শেষ হওয়ার আগেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। পড়াশোনা যখন শেষ তখন আমি ছোট দুটি সন্তানের মা। তাদের রেখে ৯টা-৫টা অফিস করা আমার সম্ভব ছিল না। তাই ঘরে বসে কিছু করাকে প্রাধান্য দেই। ২০১১ সালে প্রথমে আমি একটি ডে-কেয়ার এন্ড স্কুল চালু করি। কিন্তু সেটি বেশিদিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৩ সালে আমি এটুআই ডিজিটাল উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। ২০১৩ সালে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ শুরু করি। তবে দক্ষতা না থাকায় সফল হতে পারিনি। তাই ২০১৬ সালে গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। তারপর শুরু হয় আমার ডিজিটাল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা। শিরিন জানান, যে কেউ ইচ্ছা করলে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে কাজ শুরু করলে লাখ টাকা আয় করা কোনো বিষয়ই না। ইতোমধ্যে শিরিন ঢাকা জেলা থেকে সর্বোচ্চ আয়ের জন্য অর্জন করেন লার্নিং এন্ড আর্নিং উদ্যোক্তা সম্মাননা।