আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলো এখন ঐক্যবদ্ধ। এ কারণে আগামী নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটে শেখ হাসিনার বিজয় সুনিশ্চিত। গতকাল শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
পল্টনে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনায় ঐক্যফ্রন্ট নিশ্চুপ এবং নির্বাচনে জয়ী হলে ড. কামাল হোসেন প্রেসিডেন্ট এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন-একজন সাংবাদিক এ বিষয়টি তুলে ধরলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের এতো অধঃপতন হলো এটা সত্যি খুব দুঃখজনক। জ্বালাও-পোড়াও হলো, পুলিশের ওপর হামলা হলো, তিনি একটাও কথা বললেন না। কামাল হোসেন এত বেশি বিক্রি হয়ে গেলেন অপশক্তির কাছে, বিস্মিত হলাম। যারা এখনও ঠিক করতে পারেনি দলনেতা কে হবেন, তাদের কাছে জনগণ কী আশা করতে পারে? আমাদের যেমন সিদ্ধান্ত আছে, যখনই নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা।’
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর আসলেই বিএনপি-জামায়াত ভয় পায় দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কী কারণে যেন বিএনপি-জামায়াত জোট ভয় পায়। তাদের একাত্তরের সেই পরাজয়ের কথা মনে হয়। এই কারণেই ডিসেম্বর মাস আসলে তারা আতঙ্কিত হয়। তিনি বলেন, বিজয়ের মাস আসলে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে অপশক্তির বিরুদ্ধে। পল্টনে পুলিশের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘কেন পুলিশকে আক্রমণ করা হলো? এবারও দেখলাম বাঁশের লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নারী-পুরুষ। আমরা বিস্মিত হলাম দেখে। তারা মনে হয় আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। এতেই বোঝা যায় বিএনপির চরিত্র এখনো পরিবর্তন হয়নি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনও মনে করি তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচনের মাঠে আসেন, নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করেন। জনগণ রায় দেবে, সেই রায় আমরা মেনে নেব। আমরা সবাই জনগণের রায়ের অপেক্ষায় থাকলাম। আমরা বিশ্বাস করি মুক্তিযুদ্ধের শক্তি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ আছে, আমাদের বিজয় নিশ্চিত।’
মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্তই নেবেন তার পক্ষে থাকবে ১৪ দল। সূত্র জানায়, আসন বণ্টন ও প্রচার-প্রচারণার কৌশল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। যেসব শরিক দলের এবার এমপি নেই, তারা আসন্ন নির্বাচনে বিবেচনার দাবি জানান।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে ১৪ দল:সূত্র জানায়, বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবার ১৪ দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার প্রস্তাব করলে, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে ২৩ দফার ভিত্তিতে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল, তার যেগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো নিয়ে নির্বাচনী ইশতিহার ঘোষণা করা হবে। তবে এ ব্যাপারে জোটের নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করায় তাদের স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে মুখ বন্ধের নীতিকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে আর খুনি-আগুন সন্ত্রাসীদের হাতে যেতে যাওয়া যাবে না।
১৪ দলীয় জোটগতভাবে এবার যেসব দলের প্রার্থী থাকবে তাদের এক সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসে সমন্বিতভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশে এখন দুটি ধারা বিরাজমান। একটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, অন্যটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি।
গণআজাদী লীগের সভাপতি এসকে শিকদারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।