ভোগ্যপণ্য মজুদের নীতিমালা নেই, দামে চলছে কারসাজি

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন,চট্টগ্রাম অফিস

গুদামে আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্য মজুদের সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা নেই, যা পণ্য মজুদধারীদের জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এতে বিভিন্ন সময়ে বাজারে কারসাজি করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে চলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমদানিকৃত পণ্য ৩ মাস পর্যন্ত গুদামে মজুদ রাখার বিধান করে একটি নীতিমালা তৈরী করেছিল। কিন্তু এই নীতিমালা কার্যকর হচ্ছে না। এতে আমদানিকৃত পণ্য ইচ্ছা মতো গুদামে মজুদ রাখছে ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় তিন শতাধিক গুদাম রয়েছে। এসব গুদাম এখন পণ্যে ভর্তি। এবার যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছে গত কয়েক বছরে তা হয়নি। এছাড়া এক বছর আগে আমদানি করা প্রচুর পণ্য এখনো বিভিন্ন গুদামে মজুদ রয়েছে। জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে পণ্যের দাম সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। আবার যে কোন সময় দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ব্যবসায়ীরা প্রচুর পণ্য আমদানির জন্য এলসি করেছে। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য ইতিমধ্যে চলে এসেছে। পাইপ লাইনে রয়েছে আরো পণ্য ।

জানা যায়, ৫/৬ বছর আগেও আমদানিকারকরা পণ্য রাখার জন্য বাণিজ্যিক গুদামের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন বৃহত্ আমদানিকারকরা নিজেরাই পণ্য মজুদের গুদাম তৈরী করেছে। তারা আমদানি করা পণ্য নিজেদের গুদামে মজুদ করছে।

চট্টগ্রামে গুদাম ব্যবসায়ীদের সংগঠন চট্টগ্রাম ঠিকাদার ও কমিশন এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শফিক আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, গুদামে ৩/৪ মাস পণ্য মজুদের বিধান রেখে একটি নীতিমালা রয়েছে বলে শুনি। কিন্তু এই নীতিমালা বাস্তবে কার্যকর নেই। অনেক সময় ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে ব্যবসায়ীরা ৭/৮ মাস পর্যন্ত পণ্য গুদামে মজুদ রাখছে। তবে ৪/৫ মাসে বেশী হলে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হতে শুরু করে।’

ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক আশুতোষ মহাজন ইত্তেফাককে বলেন,‘গুদামে ৬ মাসের বেশী রাখলে পণ্যের গুণগত মান থাকে না। পরে মানহীন এসব পণ্য দিয়ে মাছের খাদ্য তৈরী করা হয়।’ খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সোলায়মান বাদশা ইত্তেফাককে বলেন, এক  বছর আগে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য এখনো বিভিন্ন গুদামে রয়েছে। ৫/৬ মাস পর গুদামে  এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। যাতে পণ্যে মান ঠিক থাকে।’

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন,‘ সরকারী ভাবে গুদামে পণ্য মজুদের সুনিদিষ্ট কোন নীতিমালা নেই। আমাদের গুদামে চাল ও গম রাখা হয়। চাহিদা অনুসারে পণ্য যতদিন খাবারের উপযোগী থাকবে ততদিন পর্যন্ত গুদামে পণ্য রাখা হয়।’

নগরীর মাঝিরঘাট, অলংকার মোড়, নাসিরাবাদ, ফৌজদারহাট,পতেঙ্গা এলাকায় পণ্য মজুদের গুদাম গুলো রয়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে বিক্রিত পণ্য এসব স্থানের গুদাম থেকে ডেলিভারী দেয়া হয়ে থাকে। তবে বাণিজ্যেক গুদাম গুলোর মধ্যে অধিকাংশ নিচু এলাকায় অবস্থানের কারণে বর্ষা মৌসুমে গুদামে পানি ঢুকে পড়ে পণ্য নষ্ট হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে।