গণতন্ত্রের মানসপুত্র, অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ও নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছেলে রাশেদ সোহরাওয়ার্দী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনে নিজ বাসায় তিনি মারা যান। তিনি একজন খ্যাতিমান ব্রিটিশ লেখক ও অভিনেতা হিসেবে (রবার্ট অ্যাশবে নামে) যুক্তরাজ্যে পরিচিত ছিলেন। লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার আশিকুন নবী চৌধুরী গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সেখানকার পুলিশের ভাষ্যমতে, নিজ বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।
লন্ডনে যোগাযোগ করে জানা যায়, রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর মরদেহ এখন একটি হাসপাতালের মর্গে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছে। তবে একটি সূত্র জানায়, ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হতে পারে। সেন্ট্রাল লন্ডনের বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে বাংলাদেশি কমিউিনিটির একটি অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। মৃত্যুকালে তার বয়স আশি’র কাছাকাছি হতে পারে।
মরহুমের পিতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী খ্যাতিমান বাঙ্গালী রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ছিলেন। তিনি পাকিস্তান আওয়ামী লীগ থেকে ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৫৭ সালের ১৭ অক্টোবর পদত্যাগের আগে পর্যন্ত পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাশেদ সোহরাওয়ার্দী ছোট বেলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি লন্ডনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি গতকাল এক শোকবার্তায় রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্পিকার মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবোরের প্রতি সমবেদনা জানান।
রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম। গতকাল এক শোকবার্তায় জেপি’র নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মরহুম রাশেদ সোহরাওয়ার্দী লন্ডনে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন অকৃত্তিম বন্ধুকে হারালো।
পৃথক এক শোকবার্তায় শোক জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে গণফোরামের সভাপতি-পরিষদের সভায়ও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। গণফোরামের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মত রাশেদ সোহরাওয়ার্দীও গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দেশে-বিদেশে জনমত গঠনেও তিনি অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন।