তামিম ইকবালের ধন্ধুমার ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দিয়েই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর। ৬১ বলে তার অপরাজিত ১৪১ রানেই দ্বিতীয়বার বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
সতীর্থ তামিমের ব্যাটিং তাণ্ডবের প্রশংসায় মেতেছেন টাইগাররা। সুদূর নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ থেকে মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, টি-টোয়েন্টিতে আমার দেখা সেরা ইনিংস। সাকিব আল হাসানেরও রায়, তার দেখা এটিই তামিমের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
এমন বিস্ফোরক ইনিংস খেলে তামিম প্রশংসাধন্য হয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনেরও। গত শুক্রবার রাতে ফাইনালের পর তিনি বলেছেন, ‘ফাইনাল ভালো লেগেছে, হাইস্কোরিং ম্যাচ হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা আমার কাছে যেটা ভালো লেগেছে, তা হলো তামিমের ইনিংসটা। অসাধারণ। এটা আজকে অন্য কেউ হয়তো করতে পারতো; কিন্তু তামিম করাতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে।’
বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে শুরুতে ম্লান থাকলেও শেষ প্রান্তে এসে দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ব্যাটিংয়ে তামিম ও বোলিংয়ে সাকিব দেশীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সেরা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন সাকিব। ২০১২, ২০১৩ সালের পর এটিসহ তিনবার সেরা খেলোয়াড় হলেন এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার।
কয়েক ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পরও টুর্নামেন্ট শেষে ১৪ ম্যাচে তামিমের সংগ্রহ ৪৬৭ রান। ৫৫৮ রান করে শীর্ষে রংপুর রাইডার্সের রাইলি রুশো। তবে ব্যাটিংয়ে সেরা দশের মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। ৪২৬ রান করে দ্বিতীয় স্থানে চিটাগং ভাইকিংসের নেতৃত্ব দেওয়া মুশফিকুর রহিম। এছাড়া ঢাকা ডায়নামাইটসের রনি তালুকদার ৩১৭, চিটাগংয়ের ইয়াসির আলী ৩০৭, সাকিব ৩০১ রান করেছেন।
শুক্রবার তামিমের খেলা ১৪১ রানের ইনিংসটিই এবার বিপিএলে সেরা ইনিংস। তামিমেরও ক্যারিয়ার সেরা। বিপিএলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সেরা ইনিংস। বিপিএল ফাইনালে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। তামিমেরও বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি। যেখানে ১০টি চার ও ১১টি ছক্কা মেরেছিলেন এই বাঁ-হাতি। এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিপিএলে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৯টি ছক্কা ছিল সাব্বির রহমানের। তবে বিপিএলে সর্বোচ্চ ১৪৬ রানের ইনিংস আছে ক্রিস গেইলের। ২০১৭ সালে পঞ্চম আসরের ফাইনালে এই ইনিংস খেলেছিলেন গেইল।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের একচ্ছত্র আধিপত্য। বিপিএলের সেরা পাঁচ বোলারই বাংলাদেশের। ২৩ উইকেট নিয়ে শীর্ষে সাকিব। ২২ উইকেট করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেন। ২০ উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
জাতীয় নির্বাচনের কারণে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়নি বিপিএল। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় এই টুর্নামেন্ট। চলতি বছরেই বিপিএলের আরেকটি আসর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। যদিও এই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুক্রবার নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, ‘এখনো এটা সিদ্ধান্ত হয়নি। এটার সাথে আমাদের এফটিপি, আইসিসির খেলা যা আছে সবকিছু মিলিয়ে আমাদের একটা কাঠামো তৈরি করতে হবে। তারপরও দেখতে হবে অন্যান্য টুর্নামেন্টে কে কে খেলছে, কাদেরকে পাওয়া যাবে এসব দেখতে হবে। এটা খুব সহজ না। তবে এবছর হওয়ার সম্ভাবনাও আছে, নাই যে তা নয়।’