ভারতের কাশ্মির সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং জলাশয়ের জন্য বিখ্যাত। সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকরা আসেন এখানে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এখানে পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। বর্তমানে অ-পরিবেশবান্ধব পর্যটন খাত পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। স্থায়ী পরিবেশগত উদ্বেগ মোকাবেলা এবং কাশ্মীরের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য টেকসই বা পরিবেশবান্ধব গ্রামীণ পর্যটনকে উৎসাহিত করা উচিত।
গ্রামীণ পর্যটন বলতে বোঝায় কৃষি পর্যটন, ইকোট্যুরিজম এবং ঐতিহ্য পর্যটন। ভারতে এ পর্যটনের বিকাশ ও উন্নয়নের ধারণা গ্রহণকারী প্রথম অঞ্চল ছিল রাজস্থান এবং কেরালা। স্পষ্টতই, কেরালা অন্যতম বিখ্যাত ইকো গন্তব্যস্থল। উদাহরণস্বরূপ, কেরালার কুমারকম গ্রামীণ পর্যটন প্রকল্প দেশকে দেখিয়েছে কিভাবে পরিবেশ বান্ধব চর্চা এবং প্রকৃতির যত্ন নিশ্চিত করার সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদান করতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে দুর্বলভাবে পরিচালিত পর্যটন খাত কাশ্মিরের পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণ, ডাল হ্রদ ১২০০ খ্রিস্টাব্দে ৭৫ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে ছিল। আজ এটি ১২ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। গভীরতাও ৪৫ ফুট থেকে কমে ৪ ফুট হয়েছে। হ্রদগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংরক্ষণের জন্য অনুমোদিত তহবিল সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি।
এমন জলাশয়গুলো অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে কর্তৃপক্ষের শুরু করা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অকার্যকর রয়ে গেছে। যদি জলাশয়গুলোর অবস্থা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একই হারে অবনতি হতে থাকে, তবে এটি কাশ্মিরের পর্যটন খাতকে খারাপভাবে প্রভাবিত করবে এবং জনগণের জীবনযাত্রাকেও প্রভাবিত করবে। সূত্র: জেকেপিআই ডট অর্গ
ইত্তেফাক/এসএ