জাহালম মামলার মূল আসামি সালেকের বোদায় কোটি টাকার সম্পদ!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বহুল আলোচিত জাহালম মামলার মূল আসামি আবু সালেকের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলা সদরে। সরেজমিনে গিয়ে তার বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। গত কয়েক মাস আগে তাকে এ উপজেলায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। এখানে সে হেলমেট পরে মোটরবাইকে ঘুরে বেড়াতো বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। জেলার বোদা উপজেলা সদরের প্রামাণিক পাড়ায় তার নিজেরসহ নিকটাত্মীয়দের বাড়ি রয়েছে। তবে তার নিকটাত্মীয়রা বলেছেন গত তিন/চার মাস থেকে সে আর তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছেন না। পঞ্চগড়ের বোদায় আবু সালেকের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে শহরে রয়েছে তার নিজের স্যামসাং শোরুম। গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে নিউজ হওয়ার পরপরই শোরুম বন্ধ করে দেন।

বোদা পৌরসভা এলাকার প্রামানিক পাড়ায় প্রায় ২০ শতক জমির ওপর একটি একতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িটিতে কিছুদিন আগে ভাড়াটে থাকলেও বর্তমানে গেটে তালা দেওয়া রয়েছে। বাড়ির ভেতরে ও আশেপাশে কাউকে পাওয়া যায়নি। পৌরসভার আরেক এলাকা সিপাহীপাড়াতেও ২০ শতক জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকা বেকারি। এই ঢাকা বেকারির মালিকের সাথেও প্রতারণা করেছেন আবু সালেক। বেকারি নির্মাণের টাকা জামানত হিসেবে ভাড়ার চুক্তিতে উল্লেখ করার কথা থাকলেও চুক্তির সময় আবু সালেক অস্বীকার করেন।

বেকারির মালিক শাহীন আলম জানান, আবু সালেক তার জমিতে আমাকে কারখানা নির্মাণ করতে বলে। তার কথা মতো কারখানা নির্মাণ করতে সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ হয়। এই টাকা অগ্রিম ভাড়া হিসেবে চুক্তিপত্রে উল্লেখ না করে মাত্র দেড় লাখ টাকার কথা উল্লেখ করেন। সে সাড়ে আট লাখ টাকার কথা অস্বীকার করে। আমি বাড়ির গরু ছাগল বিক্রি করে বেকারি নির্মাণ করেছি । এই টাকা ফেরত না পেলে আমি পথে বসবো। আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো।

তার ভগ্নিপতি বোদা থানার সমসের নগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক খাদেমুল ইসলাম রমজান বলেন, ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তার সাথে আমার শেষ দেখা হয়। গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রচার হলে সে আর আমার বাড়িতে আসেনি। বোদায় সে কিছু জমিজমা কিনেছে শুনেছি। এসবের সাথে আমি জড়িত নই। তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগও হয় না।

বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আবু হায়দার মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, সংবাদটি জানার পর আমরা বোদায় খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তার কিছু সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো দিকনির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন।